Qatar Footballer Asim Madibo Banned: কাতার বিদায় নিলেও চর্চায় ‘ভয়ংকর’ ফাউল! কানাডার ফুটবলারের পা ভেঙে ৫ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত আসিম মাদিবো

source : আনন্দবাজার
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে গিয়েছে কাতার। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা দাগ কাটতে না পারলেও, মাঠের ভেতরের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বেদনাদায়ক ঘটনার জেরে তারা এখন সংবাদ শিরোনামে। কানাডার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ফুটবলার ইসমাইল কোনের পা ভেঙে দেওয়ার মতো মারাত্মক ফাউল করে বসেন কাতারের আসিম মাদিবো। এই ঘটনার গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিচার করে ফিফা (FIFA) কাতারি ফুটবলারকে ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কানাডার কাছে ০-৬ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল কাতারকে। তবে হারের গ্লানির চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচের ৫১ মিনিটে ঘটা একটি অনভিপ্রেত ঘটনা। ম্যাচের ওই সময়ে বল ছিল কানাডার ইসমাইল কোনের পায়ে। আচমকাই পিছন থেকে ছুটে এসে কোনের বাঁ-পায়ে অত্যন্ত জোরালো ও বিপজ্জনক ট্যাকেল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে আছড়ে পড়ে তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন কোনে।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সাধারণ চোট মনে হলেও, কোনের ছটফটানি দেখে মাঠে উপস্থিত সতীর্থ ও চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন যে বড়সড় কোনো অঘটন ঘটে গিয়েছে। যদিও মাদিবো ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করতে চাননি, তাও এই ভয়ংকর ট্যাকেলের পর কানাডার বেশ কয়েকজন ফুটবলার উত্তেজিত হয়ে মাদিবোর দিকে তেড়ে যান। পরিস্থিতি সামাল দেন বাকি সতীর্থরা। রেফারি আর কোনো সময় নষ্ট না করে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড (Red Card) দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। হতাশায় মাথায় হাত দিয়ে মাঠ ছাড়েন কাতারি মিডফিল্ডার।
মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ইসমাইল কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালে পরীক্ষার পর জানা যায় তাঁর বাঁ-পা ভেঙে গিয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। এই মারাত্মক চোটের কারণে আগামী বেশ কয়েক মাস তিনি ফুটবল মাঠের বাইরে থাকবেন।
তবে সতীর্থদের পাশে থাকতে হুইলচেয়ারে বসেই কানাডার শেষ ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন কোনে। এই কঠিন সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই কানাডিয়ান তারকা।
ঘটনাটির পর আসিম মাদিবো নিজে অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়ে কোনে এবং তাঁর পরিবারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে আসেন। তবে মাঠের স্পোর্টসম্যান স্পিরিট বজায় রাখলেও ফিফার শৃঙ্খলিত কমিটি এই মারাত্মক ফাউলকে হালকাভাবে নেয়নি। ফলে তাঁকে ৫ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চাইলে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারত, কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে এখনও পর্যন্ত তারা কোনো আইনি পদক্ষেপ করেনি।
ফুটবল বিশ্বকাপে এর আগেও এর চেয়েও কড়া এবং দীর্ঘমেয়াদী শাস্তির নজির রয়েছে। ফিফার ইতিহাসের কিছু বড় শাস্তি নিচে দেওয়া হলো:
| বছর | অপরাধী ফুটবলার (দেশ) | আক্রান্ত ফুটবলার (দেশ) | অপরাধের ধরণ | ফিফার শাস্তি |
| ২০১৪ | লুই সুয়ারেস (উরুগুয়ে) | জর্জিয়ো চিয়েলিনি (ইতালি) | ঘাড়ে কামড়ে দেওয়া | ৯ ম্যাচ নির্বাসন |
| ১৯৯৪ | মাউরো তাসোত্তি (ইতালি) | লুই এনরিকে (স্পেন) | কনুই মেরে নাক ভেঙে দেওয়া | ৮ ম্যাচ নির্বাসন |
| ২০২৬ | আসিম মাদিবো (কাতার) | ইসমাইল কোনে (কানাডা) | ট্যাকেল করে পা ভেঙে দেওয়া | ৫ ম্যাচ নির্বাসন |
আসিম মাদিবোর এই ৫ ম্যাচের নির্বাসন ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের সুরক্ষার বিষয়টি আরও একবার জোরালোভাবে সামনে আনল। কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, মাদিবোর এই একটি ভুলের মাশুল কাতার দলকে আগামী বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে গুনতে হবে। ফুটবলপ্রেমীদের এখন একটাই প্রার্থনা, অস্ত্রোপচারের পর কানাডার ইসমাইল কোনে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারেন।






