Taratala Collapse Firhad Hakim Reaction: ‘আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি, প্ল্যান অনুমোদন করে বিল্ডিং বিভাগ’, তারাতলা কাণ্ডে শুভেন্দুর আক্রমণের পাল্টা জবাব ফিরহাদ হাকিমের

source :সংবাদ প্রতিদিন
তারাতলার ব্রেসব্রিজে নির্মীয়মাণ গোডাউন ও হিমঘর ভেঙে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী তরজা তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধ্বংসলীলার জন্য সরাসরি কলকাতা পুরসভার দুর্নীতি ও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই থাকা ত্রুটিপূর্ণ নকশাকে দায়ী করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মারাত্মক অভিযোগের পর এবার পাল্টা মুখ খুললেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। নকশায় সই থাকার বিষয়টি একপ্রকার মেনে নিলেও, গোটা ঘটনার দায় পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও বিল্ডিং বিভাগের ওপরই চাপিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানান, একটি বহুতলের নকশা বা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের (Building Department)। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি। আর কোনও বিল্ডিংয়ের প্ল্যান সরাসরি আমার কাছে আসার কথাও নয়। এই নির্দিষ্ট প্ল্যানের ব্যাপারে আমার আগে থেকে কিছু জানা ছিল না। ফাইলটি নিয়ম অনুযায়ী কমিশনারের হাত হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেবল আমার কাছে আসত।”
প্রাক্তন মেয়রের দাবি, মেয়রের আসনে থাকাকালীন এই ধরণের ফাইলে সই করা ছিল একটি প্রশাসনিক ‘ফরম্যালিটি’ বা নিয়ম মাত্র। তিনি আরও যোগ করেন, “মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটিতে বহু টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ লোকজন থাকেন। কোনটা বেআইনি আর কোনটা সঠিক, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার এক্তিয়ার মেয়রের থাকে না। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট কাকে নোটিস দিচ্ছে, কোন বেআইনি অংশ ভাঙছে বা কোন প্ল্যান স্যাংশন করছে—সেটা দেখার এক্তিয়ারও মেয়রের একার নয়।”
যদিও এই ইমারতটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তৈরি করা হচ্ছিল না বলেই মনে করেন প্রাক্তন মেয়র। তবে ওই নির্মাণকাজে যে তদারকি ও নজরদারির যথেষ্ট অভাব ছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনও দ্বিধাবোধ করেননি।
রাজনৈতিক আক্রমণ চললেও, এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের খোলাখুলি প্রশংসা করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তিনি বলেন, “উদ্ধারকাজ খুবই ভালো হয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সেনা নামিয়ে উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য উনি যা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ তিনতলা গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ঘটনার পরপরই কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরবর্তীতে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও (SDRF) তলব করা হয়।
দুপুর আড়াইটে নাগাদ পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নামানো হবে। সেই নির্দেশিকা জারির পর সেনার বিহার রেজিমেন্ট অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে সেনা নামানোর ফলেই প্রাণহানি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিমের এই বয়ান পুরসভার অন্দরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী যখন এই ঘটনায় ৫ জনের গ্রেপ্তারি এবং পুর-ইঞ্জিনিয়ারদের জেরার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন ফিরহাদ হাকিমের এই ‘টেকনিক্যাল দায় এড়ানো’র মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়রের সইকে কেবলই ‘ফরম্যালিটি’ বলে উল্লেখ করায় আগামী দিনে আইনি তদন্ত কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তারাতলা বিপর্যয়ের আঁচ যে সহজে নিভছে না, তা দুই শিবিরের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে পুরসভার রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলেছেন, সেখানে প্রাক্তন মেয়র নিজেকে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বাইরে রেখে দায়মুক্ত করতে চাইলেন। তবে ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর পর এই সই ও ফাইলের টানাপোড়েন আগামী দিনে কলকাতার আবাসন ও পুর-প্রশাসনে বড়সড় আইনি মোড় নিতে পারে।






