ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সেনাঘাঁটিতে হাউথিদের ভয়াবহ হামলায় নিহত অন্তত ৩০ সেনাকর্মী! উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সামরিক পরিস্থিতির মাঝেই ফের রক্তক্ষয়ী মোড় নিল ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ। বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ওপর নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালাল ইরান সমর্থিত শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ইয়েমেনের অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ৫০ জনেরও বেশি।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে লণ্ডভণ্ড সেনাঘাঁটি
ইয়েমেনের সৌদিপন্থী সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মূলতঃ দেশের মারিব (Marib) ও হাদরামাউত (Hadramaut) প্রদেশের একাধিক সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
ইরান সমর্থিত হাউথি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আল-রুয়াইক (Al-Ruwayq), আল-আবর (Al-Abr) এবং আল-থানিয়াহ (Al-Thaniyah) এলাকার সেনাঘাঁটিগুলিতে একাধিক আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ডাইরেক্ট-অ্যাটাক ড্রোন আছড়ে পড়েছে। এতে অন্তত শতাধিক সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহী দলটির।
[ইয়েমেনে হাউথি হামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী]
* আক্রান্ত এলাকা: মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশ (আল-রুয়াইক, আল-আবর, আল-থানিয়াহ)।
* ব্যবহৃত অস্ত্র: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন।
* হতাহতের সংখ্যা: ৩০ জন সেনা নিহত, ৫০ জনের বেশি আহত (মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা)।
* অভিযুক্ত গোষ্ঠী: ইরান সমর্থিত হাউথি শিয়া বিদ্রোহী (Ansar Allah)।
* লক্ষ্যবস্তু: সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সামরিক ক্যাম্প।
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় হামলা
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে কিছুটা স্থিতাবস্থা এবং যুদ্ধবিরতি নেমে এসেছিল। তবে গত কয়েক মাসে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হাউথিদের ক্রমাগত হামলা এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় সীমান্ত সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত চার বছরের মধ্যে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ওপর এটিই হাউথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী সমন্বিত আক্রমণ।
এলাকা খালি করার চরম হুমকি
হামলার পর হাউথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র কঠোর বার্তা জারি করে জানিয়েছে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি নিরাপত্তারক্ষী ও সেনাসদস্যরা যদি অবিলম্ব ওই সমস্ত এলাকা ও সামরিক ঘাঁটি খালি করে না দেয়, তবে তাদের জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামনে আরও বৃহত্তর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় হাসপাতালে রক্ত ও জরুরি চিকিৎসার সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এক নজরে ইয়েমেন সংঘাতের বর্তমান চিত্র:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সংঘর্ষের মূল প্রতিপক্ষ | ইয়েমেন সরকার (সৌদি সমর্থিত) বনাম হাউথি বিদ্রোহী (ইরান সমর্থিত) |
| আক্রান্ত মূল অঞ্চল | মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশ |
| নিহতের সংখ্যা | অন্তত ৩০ জন জওয়ান |
| আহতের সংখ্যা | ৫০ জনের বেশি |
| প্রভাব | মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা |
লোহিত সাগরে চলমান সংঘাতের মাঝেই ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সীমান্তে হাউথিদের এই ব্যাপক আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। রিয়াদ ও আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব।






