Uttarakhand Gurdwara Captive Crisis Ends: নিহাঙ্গ শিখদের ৩ দিনের দখলদারি শেষ, মধ্যস্থতায় মুক্ত পণবন্দি পুণ্যার্থী, স্বাভাবিক উত্তরাখণ্ডের গুরুদ্বার

source : সংবাদ প্রতিদিন
উত্তরাখণ্ডের একটি গুরুদ্বারে গত তিন দিন ধরে চলা তীব্র উত্তেজনা ও পণবন্দি সংকটের অবশেষে অবসান ঘটল। গত শনিবার সন্ধে থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুরুদ্বারের ছাদ দখল করে রাখা নিহাঙ্গ শিখদের দলটি অবশেষে নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তাদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে এক পুণ্যার্থীকে, যাকে তারা পণবন্দি করে রেখেছিল। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং শিখ ধর্মীয় নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই অচলাবস্থা দূর হয়। ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়, যখন তলোয়ার ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাত জন নিহাঙ্গ শিখ আচমকাই সংশ্লিষ্ট গুরুদ্বারে চড়াও হন। তাঁরা গুরুদ্বারের ছাদে উঠে অবস্থান নেন এবং সেখানে উপস্থিত এক পুণ্যার্থীকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে পণবন্দি করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুরো গুরুদ্বার চত্বর ঘিরে ফেলে পুলিশ আধিকারিকরা ছাদ থেকে নিহাঙ্গদের নেমে আসার জন্য লাগাতার অনুরোধ করতে থাকেন, কিন্তু নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন আন্দোলনকারীরা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে ছিল গত সপ্তাহের একটি পুরনো সংঘর্ষের ঘটনা। গত ১৬ জুন কার্নপ্রয়াগ এলাকায় হেমকুণ্ড সাহিবের দর্শন সেরে ফিরছিলেন পঞ্জাবের মোহালির কয়েকজন নিহাঙ্গ শিখ। সেই সময় কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
বিতর্ক এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে নিহাঙ্গ শিখরা স্থানীয়দের ওপর তলোয়ার নিয়ে চড়াও হন বলে অভিযোগ। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক নিহাঙ্গ শিখসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন নিহাঙ্গ শিখকে গ্রেপ্তার করে। নিজেদের সেই সতীর্থদের জেল থেকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতেই এই সাতজন নিহাঙ্গ শিখ গুরুদ্বার দখল করে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন।নিহাঙ্গ শিখরা তাঁদের কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন এবং রণকৌশলের জন্য পরিচিত। তবে তীর্থক্ষেত্রে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে পবিত্র গুরুদ্বারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পণবন্দি করার এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের অন্দরে। পরিস্থিতি যাতে সাম্প্রদায়িক বা আইনশৃঙ্খলার বড়সড় অবনতি না ঘটায়, সেজন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করছিল রুদ্রপ্রয়াগ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।এই সফল অভিযান এবং অচলাবস্থা কেটে যাওয়া প্রসঙ্গে রুদ্রপ্রয়াগের জেলা শাসক (DM) বিশাল মিশ্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুরুদ্বারের ছাদে অবস্থানরত নিহাঙ্গ শিখরা শান্তিপূর্ণভাবে নিচে নেমে আসেন। এরপর তাঁরা গুরুদ্বার প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যান।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পাওন্টা সাহিবের কয়েকজন প্রভাবশালী নিহাঙ্গ শিখ নেতার ইতিবাচক মধ্যস্থতার কারণেই এই সমস্যার দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়েছে। তাঁদের অন্যান্য যেসব দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আগামী দিনে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আলোচনা করা হবে।”কোনওপ্রকার রক্তপাত বা বলপ্রয়োগ ছাড়াই এই স্পর্শকাতর ধর্মীয় ও সামাজিক সংকটের সমাধান করতে পারা উত্তরাখণ্ড পুলিশের এক বড় সাফল্য। মেগা তীর্থযাত্রা মরশুমের মাঝে হেমকুণ্ড সাহিবগামী পুণ্যার্থীদের রুট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে পণবন্দিকে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তিতে সাধারণ পুণ্যার্থীরা।৩ দিনের স্নায়ুযুদ্ধের পর উত্তরাখণ্ডের গুরুদ্বারটি এখন সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ও শান্ত। নিহাঙ্গ শিখদের সতীর্থদের মুক্তির দাবি নিয়ে আইনি পথে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর পার্বত্য অঞ্চলের তীর্থক্ষেত্রগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।






