অবশেষে দেখা মিলল বেপাত্তা সুমিত রায়ের! শালবনি জমি প্রতারণা মামলায় ভবানী ভবনে হাজিরা অভিষেকের আপ্ত সহায়কের

মাসখানেকেরও বেশি সময় ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে সিআইডি (CID) গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় শুক্রবার রাতে সমন পাওয়ার পরেই, শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই সোজা ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। রাজ্য রাজনীতির এই হাই-প্রোফাইল মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
রাতভর নোটিস ও সকালে ভবানী ভবনে উপস্থিতি
সিআইডি সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে গোয়েন্দাদের একটি প্রতিনিধি দল টালিগঞ্জের মহাবীরতলায় সুমিত রায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে শনিবার তলবের আনুষ্ঠানিক নোটিস দেয়। নোটিসে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট সময়ে সাড়া দিয়ে শনিবার সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবনের গোয়েন্দা দপ্তরে পৌঁছান সুমিত রায়।
বর্তমানে শালবনি জমি প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় সুমিত রায়ের বিস্তারিত বয়ান রেকর্ড করছেন গোয়েন্দা আধিকারিকেরা।
[সুমিত রায় সংক্রান্ত মামলা ও সিআইডি তদন্তের রূপরেখা]
* মূল অভিযোগ: শালবনিতে জমি প্রতারণা এবং ২৬-এর বিধানসভা ভোটে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা আদায়।
* যুক্ত নাম: জেলবন্দি প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা।
* বর্তমান আইনি স্থিতি: ৪টি এফআইআরের মধ্যে ২টিতে আগাম জামিন; হাইকোর্টে নতুন আর্জির দ্রুত শুনানি খারিজ।
* সাম্প্রতিক পদক্ষেপ: ৮ আগস্ট ভবানী ভবনে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি।
হাইকোর্টে ধাক্কা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা
অন্যদিকে, সুমিতের বিরুদ্ধে শালবনি ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে আরও দুটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়ায় তিনি আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। শুক্রবার তাঁর আইনজীবী বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি দ্রুত শুনানির আবেদন জানান।
তবে বিচারপতি নির্দেশ দেন যে, তড়িঘড়ি কোনো শুনানি সম্ভব নয়; তালিকা অনুসারেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে চারটি এফআইআরের মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে তিনি আগাম জামিন পেলেও, শালবনি থানার আবেদনে মেদিনীপুর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

কীভাবে প্রকাশ্যে এলো দুর্নীতির খবর?
মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা জেলবন্দি হওয়ার পরই মূল চক্রান্তকারী হিসেবে উঠে আসে সুমিতের নাম। অভিযোগ, শালবনিতে একাধিক জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তর করার পাশাপাশি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন সুমিত।
কয়েক সপ্তাহ আগে শালবনি থানার পুলিশ তাঁকে খুঁজতে সাংসদের বাসভবনে তল্লাশি চালালেও সেই সময়ে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এক নজরে সুমিত রায়ের সিআইডি মামলা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| অভিযুক্ত ব্যক্তিত্ব | সুমিত রায় (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক) |
| তদন্তকারী সংস্থা | সিআইডি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (CID WB) |
| হাজিরার স্থান | ভবানী ভবন, কলকাতা |
| প্রধান অভিযোগ | শালবনি জমি জালিয়াতি ও প্রার্থী পদের টোপ দিয়ে অর্থ সংগ্রহ |
ভবানী ভবনে সুমিত রায়ের বয়ান রেকর্ড প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শালবনি জমি দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সিআইডি আধিকারিকেরা। আইনানুগ পথেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।






