Bengaluru Triple Murder: বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের ৩ জনকে খুনের নেপথ্যে AI-এর মন্ত্রণাদাতা! কীভাবে কোপালে মৃত্যু নিশ্চিত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে শিখেছিল ইঞ্জিনিয়ার কেনেথ ও শ্বেতা

source : আনন্দবাজার
প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতা কীভাবে অপরাধীদের মগজাস্ত্রে বিষ ঢালছে, তার এক ভয়ঙ্কর নজির দেখল বেঙ্গালুরু (Bengaluru)। গত ২২ জুনের ট্রিপল মার্ডার বা একই পরিবারের তিন সদস্যকে খুনের ঘটনায় যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে চোখ কপালে উঠেছে খোদ ঝানু তদন্তকারীদেরও। পুলিশ সূত্রে খবর, শ্বেতা এবং তাঁর লিভ-ইন পার্টনার তথা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার জে কেনেথ স্রেফ ইন্টারনেটে সার্চ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং নিখুঁতভাবে মার্ডার প্ল্যান বা খুনের নীল নকশা বানাতে রীতিমতো চ্যাটবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর কাছ থেকে ‘পরামর্শ’ নিয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জে কেনেথের বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি গাড়ি ও শখ মেটানোর জন্য নিজের নামে ৫৬ লক্ষ টাকার মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন শ্বেতা। এই ঋণের বিষয়ে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর (৫৬), মা মুত্তুলক্ষ্মী বা বোন সুপ্রিয়া কিছুই জানতেন না। কিন্তু যেহেতু কেনেথ ও শ্বেতা একসাথেই থাকতেন, তাই ব্যাঙ্ক নথিতে শ্বেতার বাপের বাড়ির ঠিকানাই দেওয়া ছিল।
পরপর কয়েকটি ইএমআই (EMI) বা কিস্তি বাকি পড়ায় দিনকয়েক আগে ব্যাঙ্কের রিকভারি এজেন্টরা সোমসুন্দরের বাড়িতে নোটিস দিয়ে যায়। এত টাকা কিসের জন্য লোন নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সোমসুন্দর ও তাঁর স্ত্রী শ্বেতার কাছে বার বার জানতে চান। নিজেদের কীর্তি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তখনই কেনেথ শ্বেতাকে বুঝিয়ে বলে, “ওদের এবার রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে হবে।”
এরই মধ্যে কেনেথের অফিসে অন্য এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠতা’র কথা জেনে ফেলেছিলেন শ্বেতা। বাপের বাড়ির অমতে লিভ-ইন করা শ্বেতা যখন এই নিয়ে কেনেথকে চাপ দেন, তখন চতুর ইঞ্জিনিয়ার কেনেথ তাঁকে বুঝিয়ে শান্ত করে এবং প্রমাণ করে যে তাঁরা স্রেফ সহকর্মী। শ্বেতার বিশ্বাস অর্জন করার পরই দু’জনে মিলে শুরু করে খুনের বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি।
পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে, কেনেথ তাঁর টেকনিক্যাল বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এআই (AI) টুলের সাহায্য নেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে তারা জানতে চায়— মানুষের শরীরের কোন অংশে আঘাত করলে সবথেকে কম সময়ে এবং নিঃশব্দে প্রাণঘাতী হামলা চালানো সম্ভব। কোন রগ কাটলে মানুষ চিৎকার করতে পারে না, তাও এআই-এর মাধ্যমে জেনে নিয়েছিল তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২২ জুন শ্বেতার বাবা, মা এবং বোনকে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠায় কেনেথ ও শ্বেতা। তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে শুরু হয় পৈশাচিক তাণ্ডব।
| শিকার | কার ভূমিকা কী ছিল? | বর্তমান অবস্থা |
| মুত্তুলক্ষ্মী (মা) | কেনেথ প্রথমে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে। শ্বেতা সামনে দাঁড়িয়ে পুরোটা দেখেন। | ঘটনাস্থলেই মৃত |
| সুপ্রিয়া (বোন) | ঘরে ঢোকা মাত্রই বোন সুপ্রিয়ার হাত-পা শক্ত করে চেপে ধরেন দিদি শ্বেতা। কেনেথ তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপায়। | ঘটনাস্থলেই মৃত |
| সোমসুন্দর (বাবা) | রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্ল্যাট থেকে পালিয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে শ্বেতা ও কেনেথের নাম বলে দেন। | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর অ্যাপার্টমেন্টের করিডোর দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পালিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তিনি হামলাকারী হিসেবে নিজের মেয়ে শ্বেতা ও কেনেথের নাম জানিয়ে জ্ঞান হারান। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তামিলনাড়ুতে পালিয়ে গিয়েছিল এই খুনি যুগল। কিন্তু বেঙ্গালুরু পুলিশ মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে দু’জনকেই তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর এই ধরণের নেতিবাচক ও অপরাধমূলক ব্যবহার সাইবার বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অপরাধ দমনে এবং মানুষের উপকারে যে প্রযুক্তি তৈরি হয়েছিল, তা কীভাবে তিন-তিনটি প্রাণ কেড়ে নেওয়ার অস্ত্র হয়ে উঠল, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। ধৃত ইঞ্জিনিয়ার কেনেথ ও শ্বেতাকে কড়া পুলিশি হেফাজতে রেখে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।






