Bengaluru Daycare Horror: কান্না থামাতে ওয়াশিং মেশিনে বন্দি! মুখে তীব্র বেগে জেট স্প্রে! বেঙ্গালুরুর আইটি ক্যাম্পাসের ডে কেয়ারে শিশুদের ওপর পৈশাচিক অত্যাচার

source : এইসময় অনলাইন
কাজের ব্যস্ততার মাঝে নিজেদের সন্তানরা যাতে চোখের সামনে নিরাপদে থাকে, সেই ভরসাতেই বহুজাতিক সংস্থার অফিস ক্যাম্পাসের ডে কেয়ারে (Daycare) বাচ্চাদের রেখে যেতেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা (Techies)। কিন্তু সেই ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ই যে অবোধ শিশুদের জন্য এক একটা টর্চার চেম্বার বা নির্যাতন কক্ষ হয়ে উঠেছিল, তা কল্পনাও করতে পারেননি টেক-দম্পতিরা। বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) ব্রুকফিল্ডের এক প্রথম সারির আইটি কোম্পানির ডে কেয়ার থেকে সামনে এল শিশু নির্যাতনের এমন এক হাড়হিম করা অধ্যায়, যা শুনে শিউরে উঠছে গোটা দেশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার (২৯ জুন) ওই ডে কেয়ারের অন্দরে চলা শিশু নির্যাতনের বেশ কিছু নারকীয় ভিডিও ফুটেজ আচমকাই সোশাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি সক্রিয় হয় চাইল্ড হেল্পলাইন (Child Helpline) কর্তৃপক্ষ। তারা সরাসরি পুলিশে খবর দিলে বুধবার বেঙ্গালুরু পুলিশ ওই ডে কেয়ারের ৫ জন মহিলা কর্মীর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের করে।
তদন্তে নামা পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন:
“অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এটা স্পষ্ট যে, বাচ্চাদের শান্ত বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটা কোনও একদিনের ঘটনা নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে এই ধরণের পৈশাচিক মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো।”
এফআইআরে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ডে কেয়ারে মূলত ২ থেকে Maximal ৩ বছর বয়সী টার্গেট করা হতো, যারা ঠিকমতো গুছিয়ে নিজেদের বাবা-মায়ের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে না। শিশুরা যখনই মায়ের জন্য কাঁদত বা খাওয়ার জন্য বায়না করত, তখনই কেয়ারগিভার ও ন্যানিরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত।
- ওয়াশিং মেশিনের ভেতর বন্দি: শিশুদের কান্না থামাতে জলহীন বন্ধ ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতরে পুরে ঢাকনা বন্ধ করে দেওয়া হতো, যাতে তীব্র ভয়ে তারা কুঁকড়ে যায়।
- অন্ধকার বাথরুমে বন্দি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইট বন্ধ করে বাথরুমে আটকে রাখা হতো শিশুদের।
- জেট স্প্রের অত্যাচার: শিশুদের জোর করে বাথরুমের কমোডের ওপর বসিয়ে রেখে, তাদের চোখে, মুখে ও নাকে তীব্র গতিসম্পন্ন হাই-প্রেশার জেট স্প্রে দিয়ে জল ছেটানো হতো, যার ফলে অনেক শিশুর দম আটকে যাওয়ার উপক্রম হতো।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভে ফুটছেন ওই বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত আইটি পেশাদাররা। লাখ টাকা খরচ করে অফিসের ওপর ভরসা রাখার এই মাশুল দিতে হবে, তা ভাবেননি কেউ।
যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক আইটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ কমিটিও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।
এক নজরে বেঙ্গালুরু ডে কেয়ার কাণ্ড:
| আক্রান্তের বয়স | অভিযুক্তের সংখ্যা | ধারা ও আইন | বর্তমান পরিস্থিতি |
| ২ থেকে ৩ বছর | ৫ জন মহিলা কর্মী (Caregivers) | জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট (JJ Act) | পুলিশি তদন্ত জারি, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। |
যে বয়সে শিশুদের মুখে আধো-আধো কথা ফোটে, সেই বয়সে বেঙ্গালুরুর এই শিশুরা সহ্য করেছে এক নারকীয় ট্রমা। কর্মজীবী বাবা-মায়েরা স্রেফ সিসিটিভি ক্যামেরার ভরসায় বাচ্চাদের যেখানে রেখে যাচ্ছেন, সেখানে আড়ালে কী চলছে তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনেরও। অভিযুক্ত ওই ৫ ন্যানির কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন নেটিজেনরা, যাতে আগামী দিনে কোনও ডে কেয়ারে এমন নিষ্ঠুরতা চালানোর সাহস কেউ না পায়।






