Falta TMC Leader Jahangir Khan Property: বিপুল সম্পত্তির দলিল, ফ্ল্যাট ও বাড়ি! ফলতার গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর ৬০টি সম্পত্তির হদিস পেল সিট

source : আনন্দবাজার
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে একদা ‘পুষ্পা’ (দক্ষিণী চলচ্চিত্রের ডাকাবুকো চরিত্র) নামে পরিচিত ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সাম্রাজ্যে এবার বড়সড় ধাক্কা দিল প্রশাসন। তোলাবাজি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা বিপুল বেআইনি সম্পত্তির হদিস পেল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। প্রাথমিক তদন্তে এই দম্পতির বাড়ি থেকে জমি ও ফ্ল্যাট-সহ অন্তত ৬০টি মূল্যবান সম্পত্তির সরকারি দলিল উদ্ধার হয়েছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে খোদ তদন্তকারীদের।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া দলিলগুলির ভিত্তিতে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন, কীভাবে অত্যন্ত সীমিত সময়ের মধ্যে একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে কোটি কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠলেন এই দম্পতি।
সিটের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন:
“উদ্ধার হওয়া ৬০টি দলিলের প্রতিটি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। এই জমি বা ফ্ল্যাটগুলি কার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল, দলিলের লিখিত মূল্যের বাইরে কোনও গোপন আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না এবং সেই কালো টাকার উৎস কী— সমস্ত কিছু তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনে পূর্বতন মালিকদেরও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে জাহাঙ্গির খানের উত্থান ঘটেছিল ২০১৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম বার ক্ষমতায় আসার ঠিক বছর দুই পরে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফলতার বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তিনি। এরপর ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গিরকে ২০ transfection সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও করেছিল দল। কিন্তু ভোটের দিন ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নাটকীয়ভাবে, পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে ভোটের লড়াই থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগ সামনে আসতে থাকে এবং নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির পরেই তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি উপায়ে বিপুল সম্পত্তি অর্জন ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই। একই সঙ্গে এই দুর্নীতির খতিয়ান ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি জোর করে লিখিয়ে নেওয়া এবং তোলাবাজির টাকা রিয়েল এস্টেটে খাটাতেন জাহাঙ্গির
বর্তমানে জাহাঙ্গির খান আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, স্বামীকে লকআপ থেকে জোরপূর্বক ছাড়ানোর জন্য থানায় ঢুকে পুলিশ কর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁর স্ত্রী রেজিনা ওরফে সারিকা বিবিকে। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে (Police Custody) রয়েছেন। সিটের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই ৬০টি দলিল জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে চলা মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ফলতার একচ্ছত্র অধিপতি ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গির খানের রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ হওয়ার পাশাপাশি তাঁর দুর্নীতির কঙ্কালসার রূপও এখন জনসমক্ষে চলে এসেছে। পুলিশের উদ্ধার করা এই ৬০টি সম্পত্তির দলিল যদি খোদ সরকারি নথিতে বেআইনি প্রমাণিত হয়, তবে জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর আগামী দিনগুলি যে জেলেই কাটতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তের পর কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এই বিপুল স্থাবর সম্পত্তির দখল নিতে আসরে নামে কি না।






