Venezuela Earthquake Death Toll Updates: এক সপ্তাহ পার, ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যুমিছিল বেড়ে ১,৭১৯! নতুন করে ৪.৬ মাত্রার কম্পনে ছড়াল চরম আতঙ্ক

source :সংবাদ প্রতিদিন
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আছড়ে পড়া শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর দেখতে দেখতে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, রাজধানী কারাকাস-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি থেকে তত বিপর্যয় ও কান্নার বুকফাটা ছবি সামনে আসছে। উদ্ধারকারীদের সমস্ত আশা ধূলিসাৎ করে দিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এরই মাঝে সোমবার নতুন করে হওয়া মাঝারি মাত্রার এক কম্পন ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলির দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন অন্তত ৫,০৩৪ জন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, যেকোনো বড় ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’ (Golden Period) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি থাকে। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ায় এখন কংক্রিটের স্তূপের নিচে আর কারও জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও, প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার আশায় বহু মানুষ দুর্ঘটনাস্থলগুলিতে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
উদ্ধারকাজ এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধারকাজ প্রয়োজনের তুলনায় বেশ ধীরগতিতে চলছে।
যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা ও পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের জন্য ১৫টি বিশেষ বড় ত্রাণশিবির (Relief Camps) গড়ে তোলা হয়েছে। দুর্গত মানুষদের কাছে জরুরি খাদ্য হিসেবে টুনা মাছ ও কাঁকড়া পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, ভেঙে পড়া পরিকাঠামো সংস্কার করে প্রায় ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎহীন এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
পরিস্থিতি যখন কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে আসছিল, ঠিক তখনই সোমবার নতুন করে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলার মাটি। রিখটার স্কেলে এই নতুন ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৬। যদিও এই কম্পনে নতুন করে কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বের ট্রমার কারণে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভীতি ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
আমেরিকান ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-র তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় ভোরে ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন (Morón) শহরের পশ্চিমে এই জোড়া ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল।
জোড়া ধাক্কার তীব্রতা:
- প্রথম কম্পন: তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়।
- দ্বিতীয় কম্পন: প্রথমটির ঠিক ৪০ সেকেন্ড পরেই ৭.৫ তীব্রতার দ্বিতীয় শক্তিশালী ধাক্কাটি আসে, যার উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এক মিনিটেরও কম সময়ে পিঠাপিঠি আসা এই দুটি দানবীয় কম্পনের ফলেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে কারাকাসের একের পর এক বহুতল ও আবাসন, যা আজ এক সপ্তাহ পরেও ভেনেজুয়েলাকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে রেখেছে।
ভেনেজুয়েলার এই চরম মানবিক সংকটের দিনে ভারত সরকারের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’-সহ আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক দেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ঠিক কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা বলা অসম্ভব।






