পাশ করেও মেলেনি নিয়োগপত্র! ৩৪ দিন ধরে অনড় আন্দোলনের পর এবার রাস্তায় বসে ঘাস খেয়ে প্রতিবাদ কেরলের চাকরিপ্রার্থীদের

পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েও মেলেনি প্রাপ্য চাকরি। দিনের পর দিন ধরে ঘোরালেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মেলা মেলেনি কোনো স্পষ্ট আশ্বাসের আলো। শেষমেশ প্রতিবাদ জানাতে ও সরকারের ঘুম ভাঙাতে চরম ও হৃদয়বিদারক পথ বেছে নিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। শনিবার সকালে কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে পিএসসি-র নিম্ন প্রাথমিক স্কুলের (LPST) যোগ্য প্রার্থীরা প্রকাশ্য রাস্তায় বসে ঘাস খেয়ে এক নজিরবিহীন আন্দোলন উপহার দিলেন।
কেন রাজপথে বসে ঘাস খেলেন আন্দোলনকারীরা?
অভিযোগ, কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (KPSC) নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরীক্ষায় যোগ্যতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিক্রান্ত হলেও সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হচ্ছে না।
প্রশাসন লাগাতার তাঁদের দাবি উপেক্ষা করায় গত ৩৪ দিন ধরে লাগাতার ধর্না-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। শনিবার সকালে আন্দোলনের ৩৪তম দিনে পৌঁছে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ছাত্রীরা রাজপথে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁচা ঘাস চিবিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানান।
[কেরল পিএসসি আন্দোলন সংক্রান্ত মূল তথ্যপঞ্জি]
* পদ ও ক্যাটাগরি: নিম্ন প্রাথমিক শিক্ষক (LPST)।
* আন্দোলনের স্থান: তিরুঅনন্তপুরম, কেরল।
* আন্দোলনের সময়কাল: ৩৪ দিন ধরে ধারাবাহিক অবস্থান।
* প্রধান দাবি: মেধা তালিকা অনুযায়ী অবিলম্বে নিয়োগপত্র প্রদান।
* বিতর্কিত বিষয়: পিএসসি মূল্যায়নে দুর্নীতি ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত।
এক বিক্ষোভকারী ছাত্রী ক্ষোভের সুরে জানান, “৩৪ দিন ধরে আমরা রাস্তায় পড়ে রয়েছি, অথচ সরকারের বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। এখন হঠাৎ করে বলা হচ্ছে আরও ২ মাস সময় লাগবে। কিন্তু কেন এই দু’মাসের বিলম্ব, তা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং মেধা তালিকার যোগ্য দাবি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।”
পিএসসি পরীক্ষায় জালিয়াতি ও এসআইটি (SIT) গঠন
কেরলে শিক্ষক নিয়োগ আন্দোলনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মূল্যায়নে বড়সড় দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে রাজ্যের প্ল্যানিং কমিশনের শীর্ষ পদের জন্য আয়োজিত পিএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতির গাম্ভীর্য অনুধাবন করে রাজ্য সরকার পুরো ঘটনার তদন্তভার সোপর্দ করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। গত জুলাই মাসে কেরল পুলিশ এই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘এসআইটি’ (SIT) গঠন করেছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি এস অজিতা বেগমকে এই তদন্তকারী টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেধার ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি
পিএসসি পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতির তদন্ত ও প্রশাসনিক ডামাডোলের মাঝেই এলপিএসটি (LPST) প্রার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের ওপর এর দায় চাপানো যাবে না।
যেহেতু স্বচ্ছ মেধা প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে তাঁদের নির্বাচন প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছে, তাই কালবিলম্ব না করে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা মেনে চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করা।
এক নজরে কেরল পিএসসি আন্দোলন:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| আন্দোলনকারী | কেরল এলপিএসটি (LPST) শিক্ষক পদপ্রার্থীরা |
| প্রতিবাদের ধরণ | রাজপথে বসে প্রকাশ্য ঘাস ভক্ষণ |
| আন্দোলনের স্থায়িত্ব | ৩৪ দিন (অব্যাহত) |
| এসআইটি প্রধান | ডিজি এস অজিতা বেগম (পিএসসি কারচুপি তদন্তে) |
একজন শিক্ষিত ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর প্রকাশ্যে রাস্তায় বসে ঘাস খাওয়ার দৃশ্য নিশ্চিতভাবেই আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর বড় এক প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল। এখন দেখার, এই মর্মান্তিক প্রতিবাদের পর কেরল সরকার দ্রুত কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।






