Pune Child Rape-Murder Case: ৬০ দিনেই মিলল ন্যায়বিচার! পুনেতে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুনে ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

source : এইসময় অনলাইন
মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার নাসরাপুর গ্রামে তিন বছরের এক শিশুকন্যার ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিক ও নারকীয় অত্যাচার স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা দেশকে। তবে সেই ঘটনার বিচার মিলল নজিরবিহীন দ্রুততায়। অপরাধ ঘটার ঠিক ৬০ দিনের মাথায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৬৫ বছরের বৃদ্ধ ভীমরাও কাম্বলকে ফাঁসির সাজা শোনাল পুনের এক দায়রা আদালত। বিশেষ বিচারক এস আর সালুংখে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০২৬ সালের ১ মে। পুনে জেলার নাসরাপুর গ্রামে নিজেদের দেশের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে এসেছিল ওই তিন বছরের শিশুটি। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন পরিবারের লোকজনের অলক্ষ্যে শিশুটিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে এবং বাছুর দেখানোর অছিলায় বাড়ির পাশের একটি গোয়ালঘরে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী বৃদ্ধ ভীমরাও কাম্বল। সেখানে শিশুটির ওপর চরম পাশবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ করার পর তাকে নির্মমভাবে খুন করে ওই ৬৫ বছরের বৃদ্ধ। নারকীয় এই কাণ্ড ঘটানোর পর রক্তাক্ত ও নিথর শিশুর দেহ গোয়ালঘরে ফেলেই চম্পট দেয় সে।
বেশ কিছুক্ষণ খুদেকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে গোয়ালঘরের ভেতর থেকে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যে ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে, তা দেখে শিউরে ওঠেন চিকিৎসকেরাও। ওই নিষ্পাপ একরত্তির দেহে অন্তত ১৮টি গভীর ও মারাত্মক ক্ষতের চিহ্ন মিলেছিল।
এই চরম নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নাসরাপুরের বাসিন্দারা। দ্রুত ন্যায়বিচার ও দোষীর ফাঁসির দাবিতে পুনে জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও অপরাধীকে ধরতে কোমর বেঁধে মাঠে নামে পুনে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই মূল অভিযুক্ত ভীমরাও কাম্বলকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ এই মামলার গুরুত্ব বুঝে রেকর্ড সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ১৬ দিনের মাথায় আদালতে ১,২০০ পাতার একটি সুবিশাল ও নিখুঁত চার্জশিট পেশ করে। এরপর মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে (Fast Track Court) স্থানান্তরিত করা হয়।
আদালতের অকাট্য প্রমাণ: বিচার চলাকালীন মোট ৫৫ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করে আদালত। সিসিটিভি ফুটেজ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডিএনএ ও ফরেনসিক রিপোর্ট এবং নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার অভিযুক্তকে দেখার অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে গত সপ্তাহে আদালত ভীমরাওকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
সোমবার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার সময় বিশেষ বিচারক এস আর সালুংখে মামলার নথিতে থাকা পূর্ববর্তী রেকর্ডের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যে, অভিযুক্ত ভীমরাও কাম্বল পূর্বেও দুটি বড় অপরাধের মামলায় জড়িয়েছিল। আইনি ফাঁকফোকরে সেবার সে খালাস পেয়ে গেলেও, তার মধ্যে কোনও অপরাধবোধ, সংশোধন বা অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি। এই ধরণের মানুষ সমাজের জন্য চরম বিপজ্জনক। তাই তিন বছরের শিশুর ওপর এই দানবীয় অত্যাচারের একমাত্র সাজা হিসেবে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো।
সাধারণত ভারতে এই ধরণের সংবেদনশীল মামলার বিচার সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। কিন্তু পুনে পুলিশ ও আদালতের এই যৌথ তৎপরতায় মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফাঁসির সাজা ঘোষণা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এই রায় আগামী দিনে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে অপরাধীদের মনে তীব্র ভয়ের সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
নাসরাপুরের সেই তিন বছরের শিশুকন্যা আর কোনোদিন মায়ের কোলে ফিরবে না ঠিকই, তবে ঘটনার ৬০ দিনের মাথায় পুনে আদালতের এই কড়া এবং দৃষ্টান্তমূলক রায় তার পরিবারকে কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি দেবে। কাম্বলের মতো সমাজবিরোধীদের জন্য এই ফাঁসির আদেশ ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবেই গণ্য হবে।






