“কাউকে এভাবে অপমান করা যায় না!” ‘কালা হিরণ’-এর টিজার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর কড়া নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের, না সরালে পদক্ষেপ ইউটিউব-এক্সকে

দুই দশক আগের কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলা আজও সলমন খানের পিছু ছাড়েনি। তবে সেই বিচারাধীন সংবেদনশীল অধ্যায় নিয়ে তৈরি ছবি ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’-র টিজার মুক্তি পেতেই তীব্র আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলো। ভাইজানের দায়ের করা মানহানির মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট প্রযোজকদের রীতিমতো ভর্ৎসনা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিজার সরিয়ে ফেলার চরম নির্দেশ দিল।
“ভাবমূর্তি একবার নষ্ট হলে ফেরানো যায় না”— প্রযোজককে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
সোমবার শুনানির সময় আদালত কক্ষে ফের টিজারটি চালিয়ে দেখা হয়। তা দেখার পরই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি জ্যোতি সিং। প্রযোজক অমিত জানির আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি মন্তব্য করেন—
“এসব কেমন ধরনের বিষয়বস্তু? মনে হচ্ছে, গতবার আদালত থেকে কোনো কড়া নির্দেশ না দেওয়ায় আপনারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আপনার মক্কেল কি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন? তাঁর আচরণ দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। যে বিষয় এখনও আদালতের বিচারাধীন, তা নিয়ে ছবি তৈরির চেষ্টা আদালতের অবমাননার শামিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন মানুষের ভাবমূর্তি অনেক কষ্টে তৈরি হয়। একবার তা নষ্ট হয়ে গেলে আর ফেরানো যায় না। ২৪ ঘণ্টার জন্যও যদি এটি জনসমক্ষে দেখানো হয়, তবে একজন সাধারণ মানুষকেও ভুগতে হয়।”
[দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের মূল পয়েন্টসমূহ]
* সময়সীমা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউব ও এক্স থেকে টিজার ডিলিট করতে হবে।
* ব্যর্থতার ফল: প্রযোজক না সরালে মেটা, এক্স ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষ সরাসরি টিজার সরাবে।
* আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারাধীন মামলা নিয়ে এমন কন্টেন্ট সলমন খানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।
ঘটনার নেপথ্য: কী ছিল সেই ‘অভিশপ্ত অধ্যায়’?
১৯৯৮ সালে রাজস্থানের কোঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন কৃষ্ণসার হরিণ (Blackbuck) হত্যার অভিযোগ উঠেছিল সলমন খানের বিরুদ্ধে। সেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে ২০১৮ সালে যোধপুর আদালত সলমনকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। যদিও দুই রাত জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
আজও মামলাটির চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিচালক ভরত শ্রীনাতের পরিচালনায় ও অমিত জানির প্রযোজনায় তৈরি হয় ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও ইউটিউব-এক্সকে নির্দেশ
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা তারকাকে নিয়ে মনগড়া নাটকীয় রূপ দেওয়া বেআইনি। টিজারটি যতক্ষণ অনলাইনে থাকবে, ততক্ষণ বাদী সলমন খানের সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাই ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রযোজনা সংস্থা ব্যর্থ হলে আদালতের নির্দেশেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে টিজারটি মুছে ফেলা হবে।
এক নজরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
| বিষয় ক্ষেত্র | বিবরণ |
| সিনেমার নাম | কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি |
| পরিচালক ও প্রযোজক | পরিচালক: ভরত শ্রীনাত, প্রযোজক: অমিত জানি |
| মামলাকারী | বলিউড অভিনেতা সলমন খান |
| আদালতের রায় | ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিজার সরানোর চরম আল্টিমেটাম |
তারকাদের ব্যক্তিজীবন ও বিচারাধীন আইনি বিষয় নিয়ে সিনেমা বানিয়ে প্রচার পাওয়ার প্রবণতায় যে লাগাম টানা প্রয়োজন, দিল্লি হাইকোর্টের এই নজিরবিহীন কড়া বার্তা তারই প্রমাণ। এখন দেখার, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রযোজনা সংস্থা নিজে থেকেই টিজারটি মুছে ফেলে নাকি ইউটিউব ও এক্স-এর ওপর নির্দেশ কার্যকর করতে হয়।






