প্যারিসের রাস্তায় একের পর এক মহিলাকে ছুরির কোপ! “আল্লার নির্দেশ”— গ্রেফতারের পর আততায়ীর বিস্ফোরক দাবি, আশঙ্কাজনক অন্তঃসত্ত্বা-সহ ২

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের জনবহুল রাস্তায় ঘটে গেল এক আতঙ্কজনক ঘটনা। সোমবার ব্যস্ত সময়ে আচমকাই ধারালো ছুরি হাতে এক যুবক ঝাঁপিয়ে পড়ে সাধারণ পথচারী নারীদের ওপর। একের পর এক মহিলাকে এলোপাথাড়ি কোপ মারার এই ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী, যা বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।
পোর্ত দে ক্লিশিতে তাণ্ডব, রক্তাক্ত অন্তঃসত্ত্বাও
ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পশ্চিম প্যারিসের ব্যস্ত এলাকা পোর্ত দে ক্লিশিতে (Porte de Clichy)। ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোমবার দুপুরে কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই এক যুবক হাতে বড় ছুরি নিয়ে তেড়ে যায়। পথে থাকা ৩ জন মহিলাকে লক্ষ্য করে একের পর এক কোপ মারে সে।
আহত মহিলাদের বয়স যথাক্রমে ১৯, ২৪ এবং ৩৬ বছর। জখমদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ঘটনার পরই স্থানটি রক্তে ভেসে যায়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেঁ নুনেজ (Laurent Nuñez) নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
“আল্লার নির্দেশে হামলা!” জনরোষ ও আততায়ীর চাঞ্চল্যকর দাবি
হামলার পরপরই আশপাশের সাধারণ মানুষ সাহসিকতার পরিচয় দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হামলা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করতেই স্থানীয় পথচারীরা তাকে ঘিরে ফেলেন। এক পথচারী নিজের সুটকেস ছুড়ে মারলে আঘাত লেগে আততায়ীর হাত থেকে ছুরিটি পড়ে যায়। এরপরই এক অফ-ডিউটি পুলিশকর্মীর নেতৃত্বে আমজনতা তাকে ধরে ফেলেন।
আটক করার সময় উপস্থিত জনতার সামনেই ওই হামলাকারীকে বলতে শোনা যায়—
“আল্লা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেই আমি এই কাজ করেছি।”
[ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও হামলাকারীর বয়ান]
* হামলার স্থান: পোর্ত দে ক্লিশি (Porte de Clichy), প্যারিস।
* জখম: ৩ জন মহিলা (১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর), ১ জন অন্তঃসত্ত্বা।
* আততায়ীর বয়ান: "আল্লার নির্দেশে হামলা চালাই।"
* জনতা ও অফ-ডিউটি পুলিশের ভূমিকা: সুটকেস ছুড়ে ছুরি ফেলা হয় এবং ধাওয়া করে পাকড়াও।
পরিচয় গোপন, জেরায় অসংলগ্ন কথা ও তদন্ত শুরু
ঘটনার খবর পেয়েই ফরাসি পুলিশ দ্রুত পৌঁছায় এবং হামলাকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনও আততায়ী বা জখম হওয়া নারীদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে আনেনি ফরাসি সরকার।
পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে হামলাকারী একের পর এক বিভ্রান্তিকর ও অসংলগ্ন মন্তব্য করছে, যার ফলে তার সঠিক পরিচয় বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। এটি কোনো উগ্রপন্থী জঙ্গি হামলা (Terror Attack) নাকি মানসিক ভারসাম্যহীনতার ফল, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ফরাসি পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড।
এক নজরে মূল তথ্য:
| বিষয়বস্তু | বিবরণ |
| ঘটনার স্থান | পোর্ত দে ক্লিশি, প্যারিস, ফ্রান্স |
| আহতদের সংখ্যা | ৩ জন নারী (অন্তঃসত্ত্বাসহ ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক) |
| আটক প্রক্রিয়া | অফ-ডিউটি পুলিশকর্মী ও স্থানীয় পথচারীদের তৎপরতায় ধরা পড়ে |
| বর্তমান অবস্থা | হামলাকারী গ্রেফতার, ফরাসি পুলিশ ও গোয়েন্দারা তদন্ত চালাচ্ছে |
জনবহুল রাস্তায় দিনের আলোয় এমন হামলা প্যারিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। অন্যদিকে, নিজেদের জীবন বিপন্ন করে আততায়ীকে ধরে ফেলা ফরাসি নাগরিকদের সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুরো বিশ্ব। ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা উগ্রপন্থী চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।






