পিএম মোদি ও সেনাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য! ‘ককরোচ’ বিক্ষোভের পর এক্স অ্যাকাউন্ট ও সংবাদ মাধ্যমকে নোটিস দিল্লি পুলিশের

নিট (NEET) পরীক্ষার বিতর্ককে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র যে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়ায়, তা প্রশমিত হওয়ার পরেও সোশাল মিডিয়ার ডিজিটাল মাধ্যমে নজরদারি কঠোর করেছে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনের আড়ালে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সশস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী সম্পর্কে কুৎসা ও উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে একের পর এক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল সংবাদ সংস্থাকে আইনি নোটিসের আওতায় আনা হয়েছে।
কেন এই আইনি নোটিস? কী অভিযোগ দিল্লি পুলিশের?
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় এবং তার পরপরই এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে আপলোড হওয়া ভিডিও, পোস্ট এবং মন্তব্য ক্রমাগত স্ক্যান করছিল পুলিশের বিশেষ সোশাল মিডিয়া মনিটরিং টিম।
তদন্তে দেখা যায়, কতিপয় প্রভাব বিস্তারকারী (Influencer) এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশের নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে চরম আপত্তিকর, অবমাননাকর ও মিথ্যা তথ্য সংবলিত এআই ডিপফেক (AI Deepfake) পোস্ট ছড়ানো হয়েছে।
সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ছাড়াও একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল যাচাই না করেই ওই উসকানিমূলক কনটেন্ট সম্প্রচার করায় তাদেরকেও নোটিস পাঠিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ও ভিডিওগুলি অবিলম্বে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
[সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারিতে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ]
* আইনি ধারা: তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)।
* চাওয়া বিবরণ: অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম, ঠিকানা, আইপি অ্যাড্রেস ও লগ-ইন ডিটেইলস।
* মূল লক্ষ্য: ভুয়ো এআই ভিডিও, ডিপফেক এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নামে অবমাননাকর মন্তব্য রোখা।
নেপথ্যে ‘পাক অ্যালগরিদম’ ও জেন জি-কে উসকানির চক্রান্ত
এই সাইবার তদন্তের সময় চাঞ্চল্যকর এক আন্তর্জাতিক যোগসূত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের খেপিয়ে তুলতে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হওয়া প্রায় ৪০০-রও বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল অহোরাত্র কাজ করছে।
বিশেষ করে এই আন্দোলন তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ জেন জি (Gen Z)-দের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হওয়ায় ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদমকে (Instagram Algorithm) টার্গেট করেছিল পাক নেটওয়ার্ক। ক্ষতিকারক এবং এডিট করা আবেগঘন ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট জোরপূর্বক সাধারণ যুবকদের টাইমলাইনে বা ফিডে ঢুকিয়ে আন্দোলনকে হিংসাত্মক দিকে ঠেলে দেওয়াই ছিল এদের মূল উদ্দেশ্য। এর আগেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই একই পাকিস্তানি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সাইবার সেল বা আইএফএসও (IFSO) ইউনিট স্পষ্ট জানিয়েছে, আপত্তিকর তথ্য সরানোর নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী এবং সংবাদ মাধ্যমগুলির বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে। পাশাপাশি, সাধারণ নাগরিক ও ছাত্র সমাজকে অনুরোধ করা হয়েছে যে সোশাল মিডিয়ায় কোনো উড়ো খবর, ডিপফেক ভিডিও বা অবমাননাকর মেসেজ বিশ্বাস করার আগে বা শেয়ার করার আগে তার সততা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এক নজরে সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যাকশন:
| বিবরণ ক্ষেত্র | পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ |
| টার্গেট অ্যাকাউন্ট | প্রধানমন্ত্রী ও সেনাকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক পোস্ট প্রদানকারী এক্স ও অন্যান্য হ্যান্ডেল। |
| নিউজ পোর্টাল | বিতর্কিত খবর যাচাই না করে সম্প্রচার করায় নজরদারিতে আসা ডিজিটাল মিডিয়া। |
| বিদেশি ইন্ধন | ৪০০-র বেশি পাক হ্যান্ডেল সনাক্ত ও ব্লক করার আইনি প্রক্রিয়া জারি। |
| প্রযুক্তিগত অপরাধ | এআই জেনারেটেড ডিপফেক ভিডিও এবং কৃত্রিম গুজব ছড়ানো। |
বাকস্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের সম্মান বজায় রাখতে কোনো আপস করবে না পুলিশ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে অপব্যবহার করে উসকানি ছড়ানোর এই প্রচেষ্টায় দিল্লি পুলিশের কড়া পদক্ষেপ বার্তা দিচ্ছে যে রাজপথের পাশাপাশি অনলাইন দুনিয়াতেও আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।






