নিট আন্দোলনের আড়ালে দুষ্কৃতী রাজ? যন্তর মন্তরে ককরোচদের বিক্ষোভে খুনি, ধর্ষকসহ ৯৮৯ দাগি অপরাধী! চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল দিল্লি পুলিশ

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজধানীর যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি যে কেবল ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলন ছিল না, তা স্পষ্ট করে দিল দিল্লি পুলিশ। আন্দোলন এবং হিংসায় জড়িয়ে পড়া বিক্ষোভকারীদের চেহারা আধুনিক ক্যামেরায় ধরে ক্রাইম রেকর্ড মেলাতেই সামনে এল ভয়ঙ্কর সত্য। আন্দোলনকারীদের ভিড়ে ঢুকে পড়েছিল সমাজবিরোধীদের বড় একটি দল।
ফেস রেকগনিশন সিস্টেমে (FRS) ধরা পড়ল ২,৮৭৩ জন, উদ্ধার চাঞ্চল্যকর নথি
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও হাজার হাজার তরুণ অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকারের সাথে আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
তবে আন্দোলন চলাকালীন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটায় সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও স্ক্যান করতে ‘ফেস রেকগনিশন সিস্টেম’ (FRS) চালু করে পুলিশ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮৭৩ জন হিংসায় জড়িত বিক্ষোভকারীকে সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের নাম-পরিচয় অপরাধীদের ডাটাবেসে মেলাতেই উঠে আসে বিস্ফোরক সব তথ্য।
[দিল্লি পুলিশ কর্তৃক শনাক্ত দাগি দুষ্কৃতীদের তালিকা]
* মোট শনাক্তকরণ (FRS প্রযুক্তি): ২,৮৭৩ জন।
* অপরাধের ইতিহাস রয়েছে: ৯৮৯ জনের (প্রায় ৩৪%)।
* খুনের মামলায় অভিযুক্ত: ১০১ জন।
* খুনের চেষ্টার মামলা: ৬২ জন।
* ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত: ৬১ জন।
* শ্লীলতাহানি ও পকসো মামলা: ২৫ জন।
* অন্যান্য: চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির মতো অপরাধের রেকর্ড।
ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণ! আন্দোলনকারীদের ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ সূত্রের দাবি, যন্তর মন্তরের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুষ্কৃতী দল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মিছিল চলাকালীন অভিযুক্তদের একাংশ সাথে করে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। কেবল স্লোগান নয়, সুযোগ বুঝে তারা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে সশব্দে সেই অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হিংসা ছড়ায়।
পুলিশের অপরাধ ডাটাবেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্ত ও চিহ্নিত ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক থানা এলাকায় ইতিমধ্যেই ধর্ষণ, খুন ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের হেনস্থার (POCSO) ধারায় বিচারপ্রক্রিয়া চলমান।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ কি নিল অসামাজিকরা?
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নিট পরীক্ষার্থীদের একাধিক দাবি মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে হওয়া এই কর্মসূচিতে এমন দাগি অপরাধীদের উপস্থিতি দেখে স্তম্ভিত প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রশ্ন উঠছে, আন্দোলন পরিচালনাকারীদের অজান্তেই কি অপরাধীরা এই আন্দোলন হাইজ্যাক করতে চেয়েছিল, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর ষড়যন্ত্র? দিল্লি পুলিশ এখন সেই ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
এক নজরে চিহ্নিত অপরাধীদের পরিসংখ্যান:
| মামলার ধরন | অভিযুক্তদের সংখ্যা |
| খুনের মামলা (Murder Case) | ১০১ জন |
| খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder) | ৬২ জন |
| ধর্ষণ (Rape Cases) | ৬১ জন |
| শ্লীলতাহানি (Molestation/POCSO) | ২৫ জন |
| অন্যান্য (চুরি, ডাকাতি ও অসামাজিক কাজ) | ৭৪০ জন |
শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া ও ন্যায্য আন্দোলনের আড়ালে কীভাবে বিপজ্জনক অসামাজিক উপাদানগুলি ঢুকে পড়ে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছিল, দিল্লি পুলিশের এই রিপোর্ট তা প্রকাশ্যে এনে দিল। চিহ্নিত ৯৮৯ জন অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি পুরো হিংসার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজছে পুলিশ।






