FIFA WC 2026 Trump vs Infantino Controversy: মার্কিন চাপে নতিস্বীকার ফিফা প্রধানের? ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের অভিযোগে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ সদস্যের

source : সংবাদ প্রতিদিন
আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ নিয়ে রেফারিংয়ের বিতর্ক এখনও থিতিয়ে যায়নি, তার মধ্যেই চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) আছড়ে পড়ল এক মহাবিতর্ক। এবার অভিযোগের তির খোদ ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফার সর্বোচ্চ প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) দিকে। আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি তদন্তের দাবি তুলে দিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ জন প্রভাবশালী সদস্য। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ক্ষমতার সামনে ফিফা ফুটবলের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেসি ছাড় পেলেও বালোগানকে লাল কার্ড! বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ম্যাচে। সেই ম্যাচে বসনিয়ার এক ডিফেন্ডারকে মারাত্মক আঘাত করায় আমেরিকার তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে (Folarin Balogun) সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফিফার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে পরবর্তী তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওই ফুটবলার নিষিদ্ধ থাকেন।
কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয় ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিও (Lionel Messi) ঠিক একই ধরনের ফাউল করেছিলেন। অথচ সে সময় রেফারি মেসিকে কোনো কার্ডই দেখাননি। সেই সময় এই নিয়ে বিস্তর ঝামেলা হলেও ফিফা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বালোগানের ক্ষেত্রে কড়া শাস্তি দেওয়াতেই ক্ষুব্ধ ছিল মার্কিন শিবির।
ট্রাম্পের একটি ফোন আর রাতারাতি বদলে গেল ফিফার নিয়ম!
আসল নাটক শুরু হয় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর (Round of 16) নক-আউট ম্যাচের আগে। আমেরিকার প্রধান ভরসা বালোগানকে মাঠে নামাতে মরিয়া হয়ে ওঠে খোদ মার্কিন প্রশাসন। অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস অফিস থেকে সরাসরি ফোন যায় ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে।
এরপরই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে ফিফা বালোগানের ওপর থাকা তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও লাল কার্ড সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে। শুধু বাতিলই নয়, ফিফা এক অদ্ভুত ও হাস্যকর যুক্তি খাড়া করে জানায়— বালোগানের এই লাল কার্ড চলতি বিশ্বকাপে প্রযোজ্য হবে না! এটি কার্যকর হবে আজ থেকে ঠিক এক বছর পর। ফলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে অনায়াসে মাঠে নেমে পড়েন বালোগান।
[বালোগান লাল কার্ড বিতর্কের টাইমলাইন]
* ফাউল ও লাল কার্ড: বসনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ডিফেন্ডারকে আঘাত করে লাল কার্ড পান বালোগান।
* নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি: পরবর্তী ৩টি ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা।
* রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: বেলজিয়াম ম্যাচের আগে হোয়াইট হাউস থেকে ইনফান্তিনোকে ট্রাম্পের ফোন (অভিযোগ)।
* ফিফার সিদ্ধান্ত: চলতি বিশ্বকাপে লাল কার্ড বাতিল! শাস্তি কার্যকর হবে ১ বছর পর।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
ফিফার এই নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করার ঘটনাটি মেনে নিতে পারেনি ইউরোপীয় ফুটবল মহল। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ জন সদস্য যৌথ বিবৃতি পেশ করে ফিফা প্রধানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“একটি রানিং টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোনো ফুটবলারের লাল কার্ড রাতারাতি তুলে নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং ফুটবলের ইতিহাসের কালো দিন। আমরা পরিষ্কার দেখতে পেলাম, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার সামনে কীভাবে ফিফা ও তাদের প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন।”
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিষয়ে ফিফা এথিক্স কমিটির (FIFA Ethics Committee) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাচ্ছেন। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তে মূলত দুটি প্রধান প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হবে:
১. হোয়াইট হাউস থেকে ফিফা প্রেসিডেন্টের কাছে বালোগানের লাল কার্ড বাতিল নিয়ে সত্যিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন গিয়েছিল কি না?
২. রাজনৈতিক চাপে লাল কার্ড তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের নিজস্ব আইন ও স্বকীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না?
এক নজরে ফিফা ও ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্ক:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিশ্বকাপের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি |
| মূল অভিযুক্ত | ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। |
| হস্তক্ষেপের অভিযোগ | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস। |
| সুবিধাভোগী খেলোয়াড় | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। |
| মেসি প্রসঙ্গ | একই ফাউল করেও মেসির ছাড় পাওয়া বনাম বালোগানের শাস্তির দ্বিমুখী নীতি। |
| ইউরোপের পদক্ষেপ | ৩৫ জন পার্লামেন্ট সদস্যের তরফে ফিফা এথিক্স কমিটিতে তদন্তের দাবি। |
ফুটবলের সাথে রাজনীতিকে না গোলানোর দাবি ফিফা সব সময় করে আসলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপে আমেরিকার মাটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোনেই ফুটবলের আইন যেভাবে বদলে গেল, তা ফিফার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় ধাক্কা দিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট যেভাবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমেছে, তাতে আগামী দিনে ফিফা প্রধানের কুর্সি থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল। মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে এখন হোয়াইট হাউস বনাম ফিফার এই অন্দরের কেলেঙ্কারিই বিশ্বমঞ্চের প্রধান শিরোনাম।






