Guwahati Murder: স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, ফ্রিজে মাথা; পুলিশের ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে মৃত

স্ত্রীকে খুন করে তাঁর মাথা ফ্রিজে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্বামী রামানুজ গোস্বামীর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের অপরাধের জন্য কোনও অনুতাপ নেই বলেও দাবি করেছিলেন ৩০ বছর বয়সি ওই যুবক। এমনকি জেল থেকে বেরিয়ে এক ‘সুগার ড্যাডি’কে খুন করার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। সেই রামানুজেরই মৃত্যু হল পুলিশের ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে।
গুয়াহাটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রামানুজকে হাতিগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় চলন্ত পুলিশভ্যানের ভিতরেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন তিনি। এরপর নরকাসুর পাহাড় এলাকার কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে আচমকা লাফ দেন অভিযুক্ত।
রাস্তার পাশের একটি গভীর গিরিখাতে পড়ে গুরুতর আহত হন রামানুজ। পুলিশকর্মীরাই তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ
রামানুজ গোস্বামীর সঙ্গে ২৫ বছর বয়সি রিয়া তালুকদারের বিয়ে হয়েছিল। তাঁরা গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকায় থাকতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে তা তীব্র আকার নেয়।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত আটটা নাগাদ রামানুজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরদিন রাতে তাঁদের বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরে ঢুকে চমকে যায়। অভিযোগ, রিয়ার মাথা একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফ্রিজের ভিতরে রাখা হয়েছিল। তাঁর হাতের আঙুলও কেটে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর থেকেই রামানুজকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছিল। স্ত্রীকে খুনের পর তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। প্রায় দু’দিন ধরে পালিয়ে বেড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আদালতে ‘সুগার ড্যাডি’র হুমকি
গত ৮ সেপ্টেম্বর রামানুজকে গুয়াহাটি আদালতে পেশ করে পুলিশ। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রামানুজ দাবি করেন, “স্ত্রীকে খুন করেছি। এবার জেল থেকে বেরিয়ে ‘সুগার ড্যাডি’কেও খুন করবেন।”
‘সুগার ড্যাডি’ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন, সাংবাদিকরা জানতে চাইলেও তার কোনও উত্তর দেননি তিনি। শুধু তাই নয়, আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কোনও অনুশোচনা নেই বলেও দাবি করেছিলেন রামানুজ।
এর কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা এবং তার পরিণতি আরও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
কে ছিলেন রিয়া?
জানা গিয়েছে, রিয়া তালুকদার ফ্যান্সি বাজারের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে কাজ করতেন। তাঁর মা-বাবা কেউই জীবিত নেই। আত্মীয় বলতে ছিলেন একমাত্র ভাই।
রিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে তাঁর স্বামী রামানুজকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে। রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি
গুয়াহাটির এই হত্যাকাণ্ডের বীভৎসতা সামনে আসতেই ফের স্মরণে এসেছে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ড। শ্রদ্ধাকে খুনের পর তাঁর দেহ টুকরো করার অভিযোগ উঠেছিল প্রেমিক আফতাব আমিন পুনাওয়ালার বিরুদ্ধে।
তবে দুটি মামলার পরিস্থিতি ও আইনি অবস্থান আলাদা। গুয়াহাটির ঘটনায় রামানুজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ঠিক কীভাবে রিয়ার মৃত্যু হয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ছিল এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না। রামানুজের মৃত্যুর পর তদন্তের গতিপথও নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।






