Nandigram Bypoll: নিহত আপ্তসহায়কের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করল বিজেপি

জল্পনার অবসান। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবার দিল্লি থেকে বিজেপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসে। একইসঙ্গে রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে শাখারভ সরকারকে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগেই মঙ্গলবার দুপুরে হলদিয়া মহকুমাশাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা হাসিরানি রথের। মনোনয়ন পর্বে তাঁর সঙ্গে থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
দলের তরফে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে রেয়াপাড়ার জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেন হাসিরানি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে এবারই বিধানসভা নির্বাচনের বড় লড়াইয়ে নামছেন তিনি। ছেলেকে হারানোর শোকের মধ্যেও দল তাঁর উপর আস্থা রাখায় খুশি হাসিরানি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সংগঠন তাঁর পাশে রয়েছে এবং তিনি জয়ী হবেন।
নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গড়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। ফলে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে নজর কেড়েছিলেন শুভেন্দু। পরবর্তীতে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হন। তাই তাঁর ছেড়ে আসা এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল রাজনৈতিক মহলে।
শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ একাধিক বিজেপি নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল। মেঘনাদ পাল, প্রলয় পাল এবং অঞ্জন ভারতীর পাশাপাশি হাসিরানি রথের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত দল তাঁকেই বেছে নিল।
এর আগে হাসিরানি নিজেও জানিয়েছিলেন, পরিবারের ‘অভিভাবক’ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তিনি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। সেই বক্তব্যের পর থেকেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছিল।
মঙ্গলবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সেই জল্পনার অবসান হল। প্রার্থী হওয়ার খবর পাওয়ার পর হাসিরানি রেয়াপাড়ার জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল-সহ দলের একাধিক স্থানীয় নেতা।
ঘনিষ্ঠ মহলে হাসিরানি জানিয়েছেন, তাঁকে ভরসা করে প্রার্থী করার জন্য তিনি দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সংগঠন তাঁর সঙ্গে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন বিজেপি প্রার্থী।
হাসিরানি রথের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। পঞ্চায়েত স্তরে অন্তত পাঁচবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নন্দীগ্রামের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিও যথেষ্ট পুরনো।
এদিকে মঙ্গলবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন হাসিরানি। সকাল ১১টা নাগাদ হলদিয়ার কদমতলায় সভা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় কর্মসূচি শেষে সেখান থেকে বিজেপি প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় দু’কিলোমিটার পদযাত্রা করে হলদিয়া মহকুমাশাসকের দপ্তরে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে হাসিরানি রথকে সামনে রেখে বিজেপি যে রাজনৈতিক আবেগ ও সংগঠন—দুইয়ের উপরই জোর দিতে চাইছে, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসন ধরে রাখা বিজেপির কাছেও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






