
BRICS সম্মেলনে বলিউডি তড়কা এনে দিয়েছিলেন তিনি। সম্মেলন শেষ করে রাষ্ট্রপ্রধানরা যে যার দেশে ফিরে গেলেও বলিউডের জাদু যেন এখনও কাটেনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। BRICS সম্মেলন ঘিরে তাঁর একের পর এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলিউডের জনপ্রিয় গান ব্যবহারের বিষয়টি এখন রীতিমতো চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
রবিবার BRICS শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান সম্মেলনের স্মৃতি ও ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্মেলন নিয়ে পোস্ট করেছেন। তবে আনোয়ার ইব্রাহিমের পোস্টের ধরন ছিল একেবারেই আলাদা। একের পর এক বলিউডি গানের মাধ্যমে তিনি BRICS সফরের মুহূর্তগুলিকে তুলে ধরেছেন।
ভারত মণ্ডপমে BRICS সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন আনোয়ার। আর তার সঙ্গে জুড়ে দেন বলিউডের কালজয়ী ছবি ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’-র জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’।
শুধু তা-ই নয়, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডেও ব্যবহার করা হয়েছে শাহরুখ খান অভিনীত ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর টাইটেল ট্র্যাক। ফলে আনোয়ারের পোস্টে ভারতীয় রাজনীতি ও কূটনীতির মুহূর্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছে বলিউডের নস্টালজিয়া।
BRICS সম্মেলন চলাকালীন নিজের বিভিন্ন কার্যকলাপের বেশ কিছু ছবিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও বলিউডের জনপ্রিয় গান। তাঁর সেই পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে ‘হর দিল যো প্যায়ার করেগা’ ছবির টাইটেল ট্র্যাক।
এরপর আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্ত। সেই ছবির সঙ্গে আনোয়ার বেছে নিয়েছেন আমির খান অভিনীত ‘লগান’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘চলে চলো’। ফলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কূটনৈতিক সাক্ষাৎও তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পেয়েছে একেবারে বলিউডি আবহ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিতেও রয়েছে বলিউডি গান। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো হিন্দি ছবি ‘নয়া দওর’-এর জনপ্রিয় গান ‘সাথী হাত বাড়ানা’। একের পর এক পোস্টে এভাবে আলাদা আলাদা বলিউড গান বেছে নেওয়ার বিষয়টিই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।
BRICS সম্মেলনের ফাঁকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাড়িতেও গিয়েছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই সাক্ষাতের ছবির সঙ্গে তিনি ব্যবহার করেছেন শাহরুখ খান অভিনীত ‘বীর-জারা’ ছবির গান ‘অ্যায়সা দেশ হ্যায় মেরা’। ভারত-মালয়েশিয়ার সম্পর্কের আবহে গানটির ব্যবহারও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে আনোয়ার ইব্রাহিমের বলিউডপ্রেমের ঝলক BRICS-এর শেষ দিনগুলিতেই প্রথম দেখা যায়নি। সম্মেলনের প্রথম দিনেই তাঁর গানের প্রতি ভালোবাসার কথা সামনে এসেছিল। গালা ডিনারে পিয়ানোর সুরের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনি গেয়ে উঠেছিলেন কিশোর কুমারের বিখ্যাত গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোয়ি হকিকত’।
এই গানটি আনোয়ারের কাছে নতুন নয়। ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারেও তাঁকে এই গান গাইতে শোনা গিয়েছিল। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তিন দেবিয়াঁ’ ছবির এই গানটির সুর দিয়েছিলেন শচীন দেববর্মন এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিশোর কুমার।
কিশোর কুমারের সেই কালজয়ী গান আজও ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। তবে BRICS সম্মেলনের পর আনোয়ার ইব্রাহিমের পোস্টগুলি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁর পছন্দের তালিকায় এখন শুধু কিশোর কুমার নন—পুরো বলিউডই জায়গা করে নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কূটনীতি, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আর আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আনোয়ারের এই বলিউডি পোস্টগুলি তাই সোশাল মিডিয়ায় তৈরি করেছে আলাদা আগ্রহ। BRICS-এর গাম্ভীর্যের মধ্যেও বলিউডের গান দিয়ে স্মৃতি তুলে ধরার এই অভিনব পদ্ধতিই এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার বিষয়।






