
- GLOF-এর মারাত্মক প্রভাব: নেপালে প্রলয়ঙ্করি দুর্যোগের প্রাথমিক অনুমান ভূমিকম্প হলেও ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে হিমবাহ হ্রদের অস্থিতিশীল বাঁধ ভেঙে তৈরি হওয়া ‘গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (GLOF)-ই আসল কারণ।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের খেসারত: ICIMOD-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৪০ বছরে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের বরফের পরিমাণ ৪০% কমেছে, যা হিমবাহ হ্রদগুলির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে বিপদ ডেকে আনছে।
- ভঙ্গুর পরিবেশের শঙ্কা: ভারতীয় হিমালয় ও নেপাল অঞ্চলে ৫,০০০-এর বেশি চিহ্নিত গ্লেসিয়ার লেক রয়েছে, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে যেকোনো সময় বিপদের মুখে পড়তে পারে।
- GLOF বনাম অন্যান্য দুর্যোগ: ক্লাউডবার্স্ট (অতিবৃষ্টি) বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড (আকস্মিক বন্যা)-এর সঙ্গে GLOF-এর মূল তফাত হলো এটি কেবল বরফ ও পলি দিয়ে গঠিত দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধ ভাঙার ফলেই ঘটে।
কী এই ‘GLOF’ এবং কীভাবে তৈরি হয় হিমবাহ হ্রদ?
হিমবাহ (Glacier) ধীরগতিতে পাহাড়ি খাতের ওপর দিয়ে নামার সময় পাথর ও মাটি ক্ষয় করে এক বিশাল প্রাকৃতিক গর্ত তৈরি করে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহের নিচের বরফ গলে জল হিসেবে সেই কাদা-পাথরের সাময়িক বাঁধে জমা হতে থাকে। একেই বলে গ্লেসিয়ার লেক বা হিমবাহ হ্রদ।
যখন ভূমিকম্প, তুষারধস কিংবা জলস্ফীতির চাপ সহ্য করতে না পেরে এই পলির বরফ-পাথরের দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধটি আচমকা ভেঙে যায়, তখন লক্ষ লক্ষ কিউসেক জল পলি ও পাথরসহ নিমেষের মধ্যে সমতলে আছড়ে পড়ে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে বলা হয় GLOF (Glacial Lake Outburst Flood)।

দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক পার্থক্য ও তুলনা
| প্রাকৃতিক ঘটনা | মূল কারণ | স্থায়ীত্ব ও প্রভাব |
| GLOF (গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট) | বরফ গলে জমে থাকা অস্থিতিশীল প্রাকৃতিক হ্রদ বা বাঁধ ভেঙে যাওয়া। | অত্যন্ত দ্রুত ও ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক কাদা-জল-পাথরের তোড় আনে। |
| Cloudburst (মেঘ ভাঙা বৃষ্টি) | অত্যন্ত ছোট এলাকায় স্বল্প সময়ে অত্যধিক ভারী বর্ষণ। | পাহাড়ি ধ্বস ও স্থানীয় হড়পা বানের সৃষ্টি করে। |
| Flash Flood (আকস্মিক বন্যা) | বাঁধ ভাঙা, অতিবৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে অতি দ্রুত প্লাবিত হওয়া। | সমতল ও পাহাড়ি দুই অঞ্চলেই খুব দ্রুত দেখা দিতে পারে। |

[বিশ্ব উষ্ণায়ন ও হিমবাহ দ্রুত গলন] ➔ [হিমবাহ হ্রদে অতিরিক্ত জল ও পলি জমা] ➔ [প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বিস্ফোরণ (GLOF)] ➔ [ভোটকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে বিধ্বংসী হড়পা বান]
হিমালয় অঞ্চলের বাড়তে থাকা ঝুঁকি
হিমালয় তুলনামূলক নবীন পর্বতমালা হওয়ায় এর শিলা ও মাটি অত্যন্ত ভঙ্গুর। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের গ্লেসিয়ার লেকগুলির আকার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পাহাড়ি নদীর গতিপথে স্থায়ী নজরদারি না বাড়ালে নেপাল, তিব্বত তথা সমগ্র হিমালয় পাদদেশে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বারবার ঘটতে থাকবে।






