Gurugram Biker Case: ‘নিছক দুর্ঘটনা’, মহিলা বাইকারকে ধাক্কার অভিযোগ অস্বীকার কল্যাণের

গুরুগ্রামে মহিলা বাইকার সিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারার অভিযোগের ঘটনায় নয়া মোড়। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেন গাড়ির চালক কল্যাণ বনসল। তাঁর দাবি, ঘটনাটি কোনওভাবেই পরিকল্পিত ছিল না, বরং নিছক দুর্ঘটনা। এমনকি বাইকটি যে একজন মহিলা চালাচ্ছিলেন, সেটাও তিনি জানতেন না বলে দাবি করেছেন কল্যাণ।
একই দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী অভিষেক চৌহান। তাঁর পালটা অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ায় ফলোয়ার এবং ভিউ বাড়ানোর জন্যই ঘটনার ভিডিওকে বেশি করে প্রচার করা হচ্ছে। ফলে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া অভিযোগের পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে অভিযুক্তের পালটা বক্তব্যও।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার। সিয়া কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে গুরুগ্রামের গলফ কোর্স রোড ধরে বাইক চালাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় একটি সাদা গাড়ি তাঁদের পিছু নেয়। গাড়িটি বারবার তাঁদের কাছাকাছি চলে আসছিল বলে দাবি করেন তিনি। চালককে দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ।
সিয়ার দাবি, আচমকাই গাড়িটি তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। হাত ও পায়ে চোট লাগে তাঁর। তবে সেফটি গিয়ার পরা থাকায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান সিয়া।
গোটা ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে সিয়ার বাইকে লাগানো ক্যামেরায়। ধাক্কার মুহূর্ত-সহ ঘটনার একটি ভিডিও তিনি পরে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সিয়ার অভিযোগ ছিল, গাড়ির চালক মত্ত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ধাক্কা মেরেছেন।
ভিডিও সামনে আসার পর গুরুগ্রাম পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গাড়ির নম্বর HR30Y4949-এর সূত্র ধরে গাড়ির মালিকের সন্ধান পায় পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, গাড়িটি মনীশ নামে এক ব্যক্তির। তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং বর্তমানে অসমে পোস্টিং রয়েছে। পুলিশকে মনীশ জানিয়েছেন, ঘটনার দু’দিন আগে তাঁর বন্ধু কল্যাণ বনসল তাঁর কাছ থেকে গাড়িটি নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই গাড়ির চালক হিসেবে কল্যাণের নাম সামনে আসে।
তবে এখনও পর্যন্ত কল্যাণকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এর মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন তিনি।
কল্যাণের দাবি, “এটা নিছকই দুর্ঘটনা।” তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পিছনে কোনও ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। বরং তাঁর দাবি, দুই বাইকার বারবার তাঁর গাড়িকে ওভারটেক করে সামনে চলে আসছিলেন এবং বাইকের গতি কমিয়ে দিচ্ছিলেন।
কল্যাণের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে মহিলা বাইকার আচমকাই বাইক ঘোরানোর চেষ্টা করেন। সেই সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
অভিযুক্তের আইনজীবী অভিষেক চৌহানও সিয়ার অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাঁর দাবি, ভিডিও দেখে তাঁদের মনে হয়েছে, ওই মহিলা বাইকার অত্যন্ত বেশি গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বাইকের গতি ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল।
অভিষেকের দাবি, গলফ কোর্স রোড স্টান্ট বা অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালানোর জায়গা নয়। তাঁর বক্তব্য, বাইকারদের জন্য ওই রাস্তায় প্রতিদিনই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে পুরো ঘটনাকে শুধুমাত্র গাড়িচালকের ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন তিনি।
তবে কল্যাণ জানিয়েছেন, বাইকারকে ধাক্কা দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। একইসঙ্গে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি বাইকারদের ধীরে গাড়ি চালানোর কথা বলছিলেন এবং তাঁদের আচরণে বিরক্ত হয়ে সতর্ক করছিলেন।
কল্যাণের বক্তব্য, “ভুলের জন্য আমি দুঃখিত। তবে বাইকে যে একজন মহিলা ছিলেন, আমি জানতাম না।” তাঁর দাবি, তিনি জানতেন না মোটরবাইকে কে ছিলেন।
ফলে ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ঘটনায় এখন দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। সিয়ার অভিযোগ, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারা হয়েছিল। অন্যদিকে কল্যাণের দাবি, সেটি নিছক দুর্ঘটনা এবং বাইকারের আচরণই ঘটনার অন্যতম কারণ।
পুলিশ ইতিমধ্যেই গাড়ির মালিক এবং চালকের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে। এখন সিসিটিভি ফুটেজ, বাইকের ক্যামেরার ভিডিও এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে তদন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে।






