Zubeen Garg Biopic: প্রয়াত জুবিন গার্গের জীবন এবার রূপোলি পর্দায়! ছবি তৈরি করছেন শ্রী প্রীতম, প্রকাশ পেল জুবিনের দানধ্যানের অজানা কাহিনী

source : আনন্দবাজার
অসমের কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গার্গ শুধু গায়ক হিসেবেই নন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। তাঁর সেই মানবিক সত্তাকেই বড়পর্দায় তুলে ধরতে এবার ‘লভ ইউ জুবিনদা’ নামে একটি ছবি তৈরি করছেন পরিচালক শ্রী প্রীতম। জুবিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে একের পর এক অজানা স্মৃতি।
‘ইডিয়ট’, ‘খোকা ৪২০’, ‘খিলাড়ি’-সহ একাধিক ছবিতে প্রীতমের পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন জুবিন। সেই সূত্রেই বারবার গুয়াহাটি যাওয়া-আসা ছিল পরিচালকের। তাঁর কথায়, রেকর্ডিং শেষ হলেই অতিথিদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন জুবিন। কখনও নিজে রান্না করে খাওয়াতেন, কখনও গভীর রাতে শহরের নানা জায়গা ঘুরিয়ে দেখাতেন। এমনকি হোটেল থেকে স্টুডিও আনা-নেওয়ার দায়িত্বও নিজেই নিতেন।
তবে শিল্পীর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর উদারতা। প্রীতমের দাবি, পারিশ্রমিক হাতে পেয়েই রাতের শহরে বেরিয়ে পড়তেন জুবিন। রাস্তায় ঘুমিয়ে থাকা গরিব মানুষের পাশে টাকা রেখে আসতেন, শীতের রাতে কম্বল জড়িয়ে দিতেন অসহায়দের গায়ে। এমনও হয়েছে, ১০০ টাকার খাবার খেয়ে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে চলে এসেছেন কোনও দোকানিকে।
পরিচালকের কথায়, “জুবিনদা শুধু বড় শিল্পী ছিলেন না, তাঁর মনও ছিল বিশাল। ওঁর গাওয়া মানেই গান সফল। কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি আরও বড় ছিলেন।”
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে প্রয়াত হন জুবিন গার্গ। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল প্রীতমের। পরে তাঁর স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতেই ‘লভ ইউ জুবিনদা’ ছবির পরিকল্পনা করেন তিনি। ছবি তৈরির আগে জুবিনের স্ত্রী গরিমা শৈকিয়া-র অনুমতিও নিয়েছেন বলে জানান পরিচালক।

প্রীতমের দাবি, আজও জুবিনের কথা উঠলে আবেগে ভেঙে পড়েন গরিমা। তাঁর ভাষায়, “তিনি শুধু স্ত্রী নন, জুবিনদার লড়াইয়ের সঙ্গীও ছিলেন। এখনও কথা বলতে গেলেই কেঁদে ফেলেন।”
জুবিনের প্রয়াণের পর অসমজুড়ে যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আজও ভুলতে পারেন না প্রীতম। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত শোক খুব কমই দেখা যায়। তিনি বলেন, “অসমের মানুষের জন্য জুবিনদা নিজের স্বার্থের কথা কখনও ভাবেননি। কার পড়াশোনার টাকা নেই, কার চিকিৎসা দরকার, কার মেয়ের বিয়ে— সব খবরই রাখতেন। নিঃশব্দে সাহায্য করতেন।”
প্রীতমের দাবি, জুবিন কীভাবে এত মানুষকে আর্থিক সাহায্য করতেন, তা তাঁর পরিবার বা ঘনিষ্ঠরাও অনেক সময় জানতেন না। তাই তাঁর মৃত্যুর পর অসমবাসীর মনে হয়েছিল, যেন মাথার উপর থেকে আশ্রয়ের ছাদটাই সরে গেছে।
আসন্ন ‘লভ ইউ জুবিনদা’ ছবিতে এই মানবিক জুবিনকেই তুলে ধরতে চান পরিচালক। শুধু জনপ্রিয় গায়ক নয়, একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবে জুবিন গার্গের অজানা গল্পই থাকবে ছবির মূল আকর্ষণ।






