Sonam Wangchuk Arrested: সোনম ওয়াংচুককে অনশন মঞ্চ থেকে জোর করে তুলল দিল্লি পুলিশ! এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

source : সংবাদ প্রতিদিন
দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে চলা ছাত্র ও নাগরিকদের আন্দোলন এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মোড় নিল। টানা তিন সপ্তাহ অর্থাৎ ২১ দিন ধরে অদম্য মানসিকতা নিয়ে অনশন চালানো প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে কার্যত গায়ের জোরে তুলে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। বাদল অধিবেশন শুরুর মাত্র দু’দিন আগে এই পুলিশি পদক্ষেপের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আন্দোলনকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। ঘটনার প্রতিবাদে এবার আর শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।
পর্দা খাটিয়ে সোনম ওয়াংচুককে ‘উধাও’ করল পুলিশ
শনিবার সকালে যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চে আচমকাই হানা দেয় দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের নজর এড়াতে চারপাশ কাপড় ও পর্দা দিয়ে ঢেকে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর ঠিক আগের দিনই অর্থাৎ শুক্রবার ওয়াংচুক দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন—
“ডাক্তারি পরীক্ষা অনুযায়ী আমার শরীর দুর্বল ঠিকই, কিন্তু মৃত্যু হওয়ার মতো অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। দেশবাসীর কাছে আমার আর্জি আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযান সফল করুন। যদি এই অভিযান সফল হয় তবেই আমি এই অনশন ভাঙতে পারব।”
তবে ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনে বড়সড় গোলমালের আশঙ্কায় তার আগেই ওয়াংচুককে সরিয়ে দিল প্রশাসন। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই ওয়াংচুকের ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসার’ স্বার্থে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূৰ্ণভাবে যন্তর মন্তর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“মোদি মাস্ট রিজাইন”— আসরে ককরোচ জনতা পার্টি
সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে বন্দি করার খবর সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আলোচনার রাস্তা বন্ধ করে সরকার যেভাবে দমনপীড়ন নীতি নিচ্ছে, তার প্রত্যুত্তরে এবার লড়াই সরাসরি দেশের শীর্ষ পদের বিরুদ্ধে।
অভিজিৎ বলেন, “এখন আমাদের দাবি হল নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।” একই সাথে সিজেপি-র অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকেও ট্রেন্ড করানো শুরু হয় ‘মোদি মাস্ট রিজাইন’ (Modi Must Resign) হ্যাশট্যাগ।
[সোনম ওয়াংচুক অনশন ও বর্তমান স্থিতি]
* অনশনের মোট সময়কাল: ২১ দিন (যন্তর মন্তর, দিল্লি)।
* বর্তমান অবস্থান: সফদরজং হাসপাতাল (দিল্লি পুলিশের নজরদারিতে)।
* সিজেপি-র পরবর্তী কর্মসূচি: ২০ জুলাই সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনের দিনে মেগা সংসদ অভিযান।
* আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু: নিট পরীক্ষার দুর্নীতি এবং ছাত্র-যুবদের কণ্ঠরোধের প্রতিবাদ।
“এটা স্বৈরাচার, ছাত্রদের কণ্ঠরোধ হচ্ছে”— সরব মমতা ও বিরোধীরা
সোনম ওয়াংচুকের ওপর এই পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনার পর মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে ময়দানে নেমেছে বিরোধী জোট। এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার কেন্দ্রের এই আচরণকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র নিন্দা করেছেন। আপ-এর রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সোনমকে গ্রেপ্তার করার জন্যই দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে রাতারাতি বদলি করা হয়েছে। অধিবেশনের মাঝে কোনো প্রতিবাদ চাইছে না সরকার। এটা ধ্রুপদী স্বৈরাচার। ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নের কোনো উত্তর সরকারের কাছে নেই, উল্টো তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন—
“সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা এবং সুস্থতা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উনি তো শুধু সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে অনশন করেও সরকারের নীরবতা ছাড়া কিছুই পাননি। ঠিক যেভাবে দেশের হাজার হাজার ছাত্র-যুবর প্রশ্নে সরকার নীরব রয়েছে, সেভাবেই। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। এভাবে নীরব থাকা যায় না।”
এক নজরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ও পুলিশি অ্যাকশন:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি |
| আন্দোলনের দিন | ২১ দিন অনশন পূর্ণ হওয়ার পর পুলিশি হস্তক্ষেপ। |
| পুলিশের যুক্তি | দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর। |
| সিজেপি-র নতুন অবস্থান | সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি। |
| ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচি | পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ সংসদ ভবন অভিযান সফল করার ডাক। |
| রাজনৈতিক প্রভাব | সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে মোদী সরকারের ওপর তীব্র চাপ। |
দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে সাময়িকভাবে মাঠ ফাঁকা করতে পারলেও, ককরোচ জনতা পার্টি এবং বিরোধী দলগুলির সুর যেভাবে চড়ছে, তাতে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনটি শাসক দলের জন্য চরম অস্বস্তির হতে চলেছে। নিট দুর্নীতি নিয়ে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার যে ক্ষোভ এতদিন যন্তর মন্তরে জমা হয়েছিল, তা এবার সংসদের অন্দরে এবং দিল্লির রাজপথে আরও বড় আন্দোলনের রূপ নিতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






