তুমুল হৈচৈ ও বিরোধীদের ওয়াকআউটের মাঝেই লোকসভায় পাশ প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল; ধৃতদের ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বড় বিধান!

৩ মে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর দেশজুড়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। সেই বিতর্ক ও অসন্তোষ মেটাতে দ্রুত পদক্ষপ হিসেবে অসাধু উপায় ও প্রশ্নফাঁস রুখতে নতুন আইনি সংশোধন আনল মোদি সরকার। সোমবার বিলটি পেশ হওয়ার পর টানা দু’দিনের তুমুল বাদানুবাদের পর অবশেষে এটি লোকসভায় পাশ হলো।
লোকসভায় বিরোধীদের ওয়াকআউট ও বিতর্কের ঝড়
বুধবার সংসদের নিম্নকক্ষে বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ তোলেন যে, দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশ অত্যন্ত নির্মম আচরণ করেছে। এই নিয়ে লোকসভায় উপস্থিত থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে বিবৃতি দিতে হবে বলে দাবি জানান রাহুল।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্ষে উপস্থিত না থাকায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আলোচনায় অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধী এমপিরা। তীব্র বাকবিতণ্ডার পর ভোটাভুটি শুরু হতেই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবির। সেই সুযোগেই ধ্বনিভোটে বিলটি লোকসভায় অনুমোদন পেয়ে যায়।
[প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিলের মূল শাস্তি]
* ব্যক্তি/সাধারণ অপরাধী: ৩ থেকে ৫ বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
* পরীক্ষা পরিচালনকারী সংস্থা (Service Provider): ৫ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
কী কী কড়া বিধান রাখা হয়েছে নতুন বিলে?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং পেশ করা এই নতুন আইনি বিলে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসাধু চক্রের মাথা এবং পরীক্ষা গ্রহণকারী প্রাইভেট এজেন্সিগুলির ওপর বড়সড় কোপ বসানো হয়েছে:
- ব্যক্তিগত অপরাধ: পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন বা প্রশ্নফাঁসে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিললে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।
- সংস্থা বা অসাধু চক্রের শাস্তি: যে সমস্ত বেসরকারি সংস্থা পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তারা কোনোভাবে অপরাধে লিপ্ত থাকলে প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের ৫ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
- অযোগ্য ঘোষণা: কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের চিরতরে পরীক্ষা পরিচালনার কাজ থেকে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা হবে।
নিট কেলেঙ্কারি ও মোদি সরকারের বার্তা
মে মাসে পরীক্ষা বাতিলের পর দেশজুড়ে হাহাকার তৈরি হয়েছিল। দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে এই ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটাতেই দ্রুত এই কঠোর বিলটি লোকসভায় পাশ করানো হলো, যা খুব শীঘ্রই রাজ্যসভায় উত্থাপিত হয়ে আইনে রূপ নেবে।
এক নজরে বিলে প্রস্তাবিত শাস্তির তালিকা:
| অপরাধের ক্ষেত্র | জেল বা কারাদণ্ড | জরিমানার পরিমাণ |
| ব্যক্তিগত অনিয়ম/প্রশ্নফাঁস | ৩ থেকে ৫ বছর | ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত |
| পরিচালনকারী সংস্থা বা গ্যাং | ৫ থেকে ১০ বছর | ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত |
বারবার বিভিন্ন সরকারি ও সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে সৎ পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল, এই কড়া আইন কার্যকর হলে অসাধু চক্রের ওপর বড় ধাক্কা আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহল।






