“অনুপ্রবেশকারীকে ধরিয়ে দেওয়ায় ব্যক্তির বিরুদ্ধেই FIR!” পুলিশকে বেনজির তোপ কর্নাটক হাই কোর্টের, বলল— ‘তোষণ বন্ধ না হলে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে’

অনুপ্রবেশ ও তোষণ রাজনীতি বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও জাতীয় সুরক্ষার ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার এই বিষয়ে সচ্চার হয়েছেন। এবার সেই একই আশঙ্কার কথা প্রতিধ্বনি হলো কর্নাটক হাই কোর্টের রায়ে। এক বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ায় কীভাবে এক নাগরিকের ওপর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে, তা দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আদালত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্রশংসার বদলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এফআইআর
মামলাটি দায়ের করেছিলেন বেঙ্গালুরুর এক চিকিৎসক। তাঁর দাবি, তিনি দেশপ্রেম ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে এক বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে বেঙ্গালুরু পুলিশকে সাহায্য করেছিলেন।
কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। ওই অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তাকে ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে’ (FRRO) জানানো হলে, অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তির করা এক ভুয়া হেনস্তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেই পালটা এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
[ঘটনার সময়ক্রম ও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা]
* সকাল ১১:৩০ মিনিট: চিকিৎসক বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে FRRO অফিসে জানান।
* সকাল ১১:৪৫ মিনিট (মাত্র ১৫ মিনিট পর): উল্টে ওই চিকিৎসকের নামেই এফআইআর দায়ের করে পুলিশ!
* আদালতের মতামত: মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে জলজ্যান্ত এফআইআর দায়ের হওয়া স্পষ্ট প্রতিহিংসার প্রমাণ।
“এভাবেই অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে থাকার সাহস পায়”—বিচারপতি নাগপ্রসন্ন
মামলার শুনানি চলাকালীন কর্নাটক হাই কোর্টের একক বেঞ্চের বিচারক বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন ঘটনার সত্যতা ও পুলিশের ভূমিকা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান।
পুলিশ প্রশাসনের ওপর উষ্মা প্রকাশ করে বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে এফআইআর দায়ের কীভাবে সম্ভব? এটা তো পরিষ্কার প্রতিহিংসামূলক আচরণ! ঠিক এই কারণেই এই বিদেশি বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের মাটিতে দিনের পর দিন থেকে যাওয়ার সাহস পায়। এভাবে যদি সিস্টেম ও সরকার নিজেই ওদের সাহায্য করে, তাহলে আর দেশের সুরক্ষার কী হবে?”
তোষণ রাজনীতি বন্ধ করার কড়া বার্তা
হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, পুলিশ ও প্রশাসনের এই ধরণের আচরণ কেবল আইনের শাসনকেই ভেঙে ফেলে না, বরং দেশের সুরক্ষাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের বাঁচানোর এই মানসিকতাকে ‘বিপজ্জনক প্রবণতা’ বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।
আদালত আক্ষেপের সুর মিলিয়ে জানায়, পুলিশ ও প্রশাসনের ভেতর থেকে যদি কোনোভাবে তোষণ প্রক্রিয়া বজায় রাখা হয়, তবে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা অসম্ভব। এই মুহূর্তে রাজ্য প্রশাসনকে এই সমস্ত তোষণ নীতি অবিলম্বে বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে কোর্ট।
এক নজরে কর্নাটক হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
| বিষয় | আদালত ও পুলিশি রিপোর্ট |
| আদালত | কর্নাটক হাই কোর্ট (বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন) |
| মামলার মূল বিষয় | বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর |
| আদালতের বক্তব্য | পুলিশের তোষণ বন্ধ হওয়া দরকার, অন্যথায় দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন |
| পুলিশের পদক্ষেপ | অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগে সাহায্যকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫ মিনিটে FIR |
| অনুপ্রবেশকারীর পরিচয় | চিহ্নিত বেআইনি বাংলাদেশি নাগরিক |
একজন সচেতন নাগরিক যখন জাতীয় সুরক্ষার খাতিরে পুলিশকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন, তখন সাধারণ মানুষের ওপর ব্যবস্থার আস্থা কেঁপে ওঠে। কর্নাটক হাই কোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে, ভোটব্যাঙ্ক বা তোষণের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য।






