হাওড়ার গেঞ্জি কারখানার শ্রমিক, আড়ালে জঙ্গি! মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ছকের অভিযোগে হামিদকে ঘিরে চাঞ্চল্য

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় খবর সামনে এল। সুপরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে খুনের ছক কষেছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক। বর্ধমানের হাইওয়ের সংলগ্ন অভিজাত ‘রেনেসাঁ হাউসিং’ থেকে বেঙ্গল এসটিএফ ও পুলিশ যৌথ তল্লাশি চালিয়ে পাক আইএসআই সমর্থিত সাজ্জাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হামিদ মণ্ডলকে জালে তুলেছে। ধৃতের থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে হতবাক তদন্তকারীরা।
কে এই হামিদ মণ্ডল? অতি সাধারণের আড়ালে ধূর্ত mastermind
তদন্তকারীদের মতে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত সাধারণ মনে হলেও হামিদ আদতে এক অত্যন্ত ধূর্ত ও কট্টরপন্থী মনোভাবের ব্যক্তি।
- পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ তার বাবার সঙ্গেই এক গেঞ্জি কারখানায় দর্জির কাজ করত।
- কার্যপ্রণালী: বেশ কয়েক মাস আগে সে হাওড়া থেকে ডেরা গুটিয়ে বর্ধমানের অভিজাত রেনেসাঁ হাউসিংয়ে আশ্রয় নেয়। ওই হাউসিংটি জাতীয় সড়কের পাশেই অবস্থিত, যে পথ দিয়ে হরদম ভিআইপি মুভমেন্ট হয়।
- দায়িত্ব: পূর্ব ভারতে নতুন সদস্য রিক্রুট করা, বাইরে থেকে আসা উগ্রবাদীদের থাকার জায়গা তৈরি করে দেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’ (TTH)-এর আদর্শ ছড়ানো ছিল তার মূল কাজ।
[সাজ্জাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের ভারতব্যাপী চক্রান্তের ছক]
* মূল পরিচালনা: পাকিস্তান থেকে এনক্রিপ্টেড ভয়েস নোটের মাধ্যমে সাজ্জাদ ভাট্টি।
* আয়ের উৎস: পঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও ড্রাগ পাচার।
* প্রলোভন: পোস্টার মারলে ৫,০০০ টাকা; পুলিশ বা ভিআইপি খুনে ৩ লক্ষ টাকা উপহার।
* টার্গেট গ্রুপ: সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিরিয়ানি বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা ও খেটে খাওয়া যুবক।
মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে নজরদারি ও রেকি
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সফর করছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের হাইওয়েতে ডেরা বানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোন রুট দিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর নিরাপত্তার গাফিলতি কোথায়— সে সব তথ্য পাকিস্তানস্থিত হ্যান্ডলারদের পাঠাচ্ছিল হামিদ। মুখ্যমন্ত্রীর পথ রেকি করা এবং সুযোগ বুঝে হামলার চক্রান্ত বাস্তবায়িত করাই ছিল এই মডিউলের প্রধান উদ্দেশ্য।
উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে পাক জালের ডালপালা: অসম টু বেঙ্গল
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই সাজ্জাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতে এক ভয়ংকর মডিউল তৈরি করেছে।
- অসম অভিযান (২৫ জুলাই): অসম পুলিশ ও এসটিএফ ধুবড়ি, চিরাং ও বরপেটা থেকে ৩ জন সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করে। তাদের কাছ থেকে প্রচুর মোবাইল, সিম কার্ড, পরিচয়পত্র ও সন্দেহজনক নথি মেলেন।
- পঞ্জাবে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের কর্মীদের ওপর হওয়া ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর দায়ও স্বীকার করেছিল সাজ্জাদ ভাট্টির এই সংগঠন।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইতোমধ্যেই এই গ্যাংয়ের অন্তত ১২ জন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের কাজ ছিল পঞ্জাব সীমান্ত থেকে অস্ত্র ও ড্রাগ ভারতে পৌঁছে দেওয়া।
এক নজরে সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের বিবরণ:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ধৃত জঙ্গি | হামিদ মণ্ডল (বাসস্থান: পিলখানা, হাওড়া) |
| আস্তানা | রেনেসাঁ হাউসিং, বর্ধমান (জাতীয় সড়কের ওপর) |
| মূল মাস্টারমাইন্ড | সাজ্জাদ ভাট্টি (আশ্রয়দাতা: পাক ISI) |
| মুখ্য ছদ্মবেশী সংগঠন | তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (TTH) |
| প্রধান টার্গেট | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পুলিশ কর্তারা |
খাগড়াগড় কাণ্ডের পর বর্ধমানকে আবার যেভাবে জঙ্গি ডেরা হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এসটিএফ-এর তৎপরতায় তা নস্যাৎ হলেও সুরক্ষার বড়সড় ফাঁকফোকর সামনে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তান থেকে এনক্রিপ্টেড মেসেজের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ের নেতৃত্বকে খুনের ছক দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক বিশাল আঘাত, যার গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে দেশের শীর্ষ সংস্থাগুলি।






