হাওড়ার পিলখানায় দর্জির কাজ থেকে পাক হ্যান্ডলার! কীভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে খুনের ছক কষেছিল জইশ জঙ্গি হামিম? পর্দাফাঁস করল STF

বাহ্যিক চোখে হাওড়ার পিলখানার এক অতি সাধারণ দর্জি, কিন্তু পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরের পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি মডিউলের গভীর ছক! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে খুনের পরিকল্পনার মূল কারিগর হামিম মণ্ডলকে নিয়ে এবার উঠে এলো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কীভাবে এক দর্জি থেকে সে কাশ্মীর কেন্দ্রিক ‘সাজ্জাদ ভাট গ্যাং’ এবং পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের অন্যতম বিশ্বস্ত অনুচর হয়ে উঠল?
দর্জির কাজ থেকে জঙ্গি জালে প্রবেশ: কে এই হামিম?
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে উত্তর হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করত এবং স্থানীয় এক গেঞ্জি ও কাপড়ের কারখানায় দর্জির কাজ সামলাত। কিন্তু কয়েক মাস আগে স্থানীয়ভাবে কিছু সমস্যা হওয়ায় সে ডেরা গুটিয়ে স্থানান্তরিত হয় বর্ধমানে।
বর্ধমান থেকে সে নিজের পরিচয় গোপন রেখে পাকিস্তান ও কাশ্মীরের জঙ্গি হ্যান্ডলারদের হয়ে ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (OGW) হিসেবে কাজ শুরু করে। অতি শান্ত স্বভাবের হলেও তার ধূর্ততা ও ডিজিটাল মাধ্যমে নজরদারি চালানোর কৌশল দেখে এসটিএফের গোয়েন্দারাও অবাক।
মন্ত্রী উমেশ রাইকে হুমকি ফোন এবং STF-এর সূত্র লাভ
হামিমের ছকের প্রথম পর্দাফাঁস হয় রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের কাছে আসা একটি আন্তর্জাতিক ফোন কলের মাধ্যমে।
- হুমকি ও তোলাবাজি: মন্ত্রী হওয়ার পর উমেশ রাইয়ের কাছে পাকিস্তান থেকে পরিচয় দিয়ে ফোন আসে। মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার পাশাপাশি তাঁর ছেলেকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়।
- অফিস রেকি: এমনকি মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের দলীয় কার্যালয়ের গোপন ছবি তুলে পাঠিয়ে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
- এসটিএফের অ্যাকশন: উমেশ রাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে বেঙ্গল এসটিএফ। ফোনের আইপি অ্যাড্রেস ও লোকেশন ট্র্যাক করেই সন্ধান মেলে বর্ধমানের সেই গোপন ডেরার, যেখানে বসে ছক কষছিল হামিম।
[হামিম মণ্ডলের অপরাধ চক্রের মূল দিকগুলো]
* প্রাথমিক বাসস্থান ও পেশা: পিলখানা, উত্তর হাওড়া (দর্জি)।
* গোপন ডেরা: রেনেসাঁ হাউসিং, বর্ধমান।
* আন্তর্জাতিক সংযোগ: কাশ্মীরের 'সাজ্জাদ ভাট গ্যাং' ও পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যম।
* সরাসরি অপরাধ: মন্ত্রী উমেশ রাইকে হুমকি ও কার্যালয়ের ছবি স্ক্যান করে পাঠানো।
* প্রধান চক্রান্ত: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের পথ রেকি করে হামলার পরিকল্পনা।
সাজ্জাদ ভাট গ্যাংয়ের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও আরও ৪ সঙ্গীর খোঁজ
তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম ডিজিটাল মাধ্যমে কাশ্মীরের সাজ্জাদ ভাট গ্যাংয়ের অন্তত ছয়জন সক্রিয় সদস্যের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।
- গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, ভিআইপি রুট ম্যাপ এবং মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের বিভিন্ন গোপন নথি সে স্ক্যান করে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে পাঠাত পাকিস্তান ও কাশ্মীরে।
- গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, হাওড়া এবং বর্ধমান জুড়ে এই যৌথ নেটওয়ার্কে হামিম একা ছিল না; তার সাথে আরও কমপক্ষে ৪ জন সহযোগী সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল।
- বর্তমানে হামিমের হাওড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে এসটিএফের একটি বিশেষ দল রওনা হয়েছে।
এক নজরে হামিম মণ্ডল সংক্রান্ত তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| নাম | হামিম মণ্ডল (ওরফে হামিদ) |
| আসল পেশা (ছদ্মবেশ) | দর্জি (পিলখানা, উত্তর হাওড়া) |
| বর্তমান আস্তানা | রেনেসাঁ হাউসিং, বর্ধমান |
| যে জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে কাজ | জইশ-ই-মহম্মদ ও সাজ্জাদ ভাট গ্যাং |
| অভিযোগ | শুভেন্দু অধিকারীকে হামলার ছক, উমেশ রাইকে হুমকি ফোন ও রেকি |
| তদন্তকারী সংস্থা | বেঙ্গল এসটিএফ (West Bengal STF) |
একজন সাধারণ দর্জির আড়ালে যেভাবে পাক হ্যান্ডলাররা বাংলায় মডিউল বিস্তার করেছিল, তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট সতর্কবার্তা। হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর তার বাড়িতে এসটিএফের অভিযান এবং উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথি থেকে এই চক্রে যুক্ত বাকি ৪ জনসহ পুরো আন্তর্জাতিক চালচিত্রের আরও বড় তথ্য সামনে আসতে চলেছে।






