পহেলগাঁওকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কুলগামে! পরিচয় জেনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি, লস্কর জঙ্গিদের হামলায় নিহত ছত্তীসগঢ়ের ২ পরিযায়ী শ্রমিক

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের বৈসরন ভ্যালিতে পহেলগাঁও কাণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছিল দেশকে। বেছে বেছে পরিচয় জিজ্ঞেস করে, ধর্ম জেনে পুরুষদের হত্যা করার সেই ভয়াল স্মৃতি ফিরে এলো এবার দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামে। কেল্লাম এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করা দুই পরিযায়ী শ্রমিকের ওপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করল সন্ত্রাসবাদীরা।
কীভাবে ঘটল ঘটনাটি?
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলগামের কেল্লাম (Kellam) গ্রামের একটি ইটভাটায় আচমকাই হামলা চালায় একদল সশস্ত্র জঙ্গি।
- পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি: কাজ শেষে থাকা শ্রমিকদের সামনে গিয়ে একে একে তাদের পরিচয় জানতে চায় আততায়ীরা। এরপরই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা দীপক রাত্রে ও ভূপেন্দ্র কুমারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
- হাসপাতালে মৃত্যু: ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন দীপক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ভূপেন্দ্রও পরে প্রাণ হারান।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই রক্তক্ষয়ী টার্গেটেড হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)।
[কুলগাম টার্গেটেড হামলার মূল তথ্য]
* স্থান: কেল্লাম গ্রাম, কুলগাম জেলা (দক্ষিণ কাশ্মীর)।
* নিহত শ্রমিক: দীপক রাত্রে ও ভূপেন্দ্র কুমার (উভয়ই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা)।
* কৌশল: পরিচয় জিজ্ঞাসা করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলিবর্ষণ (পহেলগাঁও স্টাইল)।
* দায়ী গোষ্ঠী: লস্কর-ই-তৈবা (LeT)।
১০ দিনে দ্বিতীয় টার্গেটেড কিলিং ও ওমর আবদুল্লার উদ্বেগ
ভূস্বর্গে গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় পরিকল্পিত জঙ্গি হামলা। এর ঠিক কিছুদিন আগেই অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি চালিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা।
পরপর দুটি হামলার পরেই উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন’ (CASO) শুরু করেছে সেনাবাহিনী ও জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৩,০০০-রও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে এই ব্যাপক ধরপাকড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর মতে, এমন সর্বাত্মক ও নির্বিচারে আটক অভিযান চালালে উপত্যকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অমরনাথ যাত্রার মাঝে কড়া নিরাপত্তা বলয়
বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে পবিত্র অমরনাথ যাত্রা চলছে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও তীর্থযাত্রী এই মুহূর্তে ভূস্বর্গে উপস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই, এই আবহে এমন টার্গেটেড কিলিং প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
তীর্থযাত্রী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সেনা ও রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৭০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এক নজরে কুলগাম জঙ্গি হামলা:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | কেল্লাম এলাকা, কুলগাম জেলা (জম্মু ও কাশ্মীর) |
| নিহত ব্যক্তিত্ব | দীপক রাত্রে ও ভূপেন্দ্র কুমার (ইটভাটা শ্রমিক, ছত্তীসগঢ়) |
| হামলাকারী দল | লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) |
| নিরাপত্তা পদক্ষেপ | অতিরিক্ত ৬৭০ কোম্পানি প্যারামিলিশিয়া মোতায়েন ও CASO অভিযান |
| রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া | ব্যাপক আটকাভিযান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার উদ্বেগ |
পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে কাশ্মীরে ফের ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে পাক-মদতপুষ্ট লস্কর মডিউল। অমরনাথ যাত্রার মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাধারণ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করার এই হীন চক্রান্ত নস্যাৎ করতে এখন গোটা কুলগাম ও সীমান্ত এলাকায় জলথল এক করে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতের যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী।






