বাংলায় ১৬তম ডিজিটাল জনগণনা শুরু! অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের ফারাক বুঝিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা

রাজ্যজুড়ে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১৬তম আদমশুমারি বা ডিজিটাল জনগণনা। অতীতে সিএএ (CAA) রূপায়ণ এবং ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন নাগরিকদের নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার মাঝেই এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনগণনার সূচনা লগ্নে দাঁড়িয়েই রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনরুল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
“অনুপ্রবেশকারীদের আমরা খাওয়াতে পারব না”
জনগণনা প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে দুই শ্রেণির বাংলাদেশ থেকে আগতদের পৃথক ব্যাখ্যা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী।
- অবৈধ অনুপ্রবেশকারী: বীরভূমের সোনালি বিবির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন— “দু’ধরনের লোক বাংলাদেশ থেকে বাংলায় এসেছেন। এক ধরনের হলো অনুপ্রবেশকারী, যারা অবৈধভাবে ঢুকেছে। চিহ্নিত করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখাশোনার দায়িত্ব ভারতের নয়।”
- শরণার্থী (CAA সুরক্ষা): হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, পারসি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান— “১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এর সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ সালের মধ্যে যারা ধর্ম ও প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাঁরা শরণার্থী। তাঁদের ওপর কোনো আইনি মামলা হবে না বা পুলিশি হেনস্তা করা যাবে না।”
[জনগণনা ও সিএএ সংক্রান্ত মূল নির্দেশিকা]
* নাগরিক সুরক্ষাসূত্র: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত আগত অ-মুসলিম শরণার্থীরা CAA-র অধীনে সুরক্ষিত।
* সামাজিক প্রকল্প: শুধুমাত্র পরিচ্ছন্ন নাগরিক তালিকাধারীরাই পাবেন সরকারি সামাজিক ভাতা ও কার্ড।
* চিরস্থায়ী ডাটাবেস: ২০২৭-এর তথ্য চূড়ান্ত হলে কাস্ট সার্টিফিকেট ও ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার প্রকল্প ও স্থায়ী নাগরিক রেকর্ড
শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে জানান, ভারতের নাগরিক না হলে কেন্দ্র বা রাজ্যের কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
“পরিচ্ছন্ন নাগরিক তালিকা তৈরি হলে সরকারের কাজ করা অনেক সুবিধা হবে। এবারে ফর্মে বিস্তারিত সঠিক তথ্য দিতে হবে। ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত তথ্য হাতে এসে গেলে নাগরিকদের সামাজিক প্রকল্প বা জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নতুন করে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। একটি চিরস্থায়ী রেকর্ড তৈরি হয়ে যাবে।”
কীভাবে পূরণ করবেন জনগণনার ফর্ম?
এবারের ১৬তম জনগণনায় দেশবাসীকে ডিজিটাল মাধ্যমে ‘স্ব-গণনা’ বা Self-Enumeration করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
- অনলাইন সময়সীমা (১ – ১৫ আগস্ট): সাধারণ নাগরিকরা সরকারি পোর্টালে ঢুকে নিজেদের তথ্য নিজেরাই অনলাইন ফর্মে পূরণ ও ডিজিটালি সাবমিট করতে পারবেন।
- ভৌত ভেরিফিকেশন (১৬ আগস্ট – ১৫ সেপ্টেম্বর): ১ মাস ধরে গণনাকর্মীরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডিজিটাল তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নেবেন।
- অফলাইন সহায়তা: যারা অনলাইনে ফর্ম ফিল-আপ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়ি গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে দেবেন।
এক নজরে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনা:
| বিষয় | বিবরণ / সময়সীমা |
| প্রক্রিয়ার নাম | ১৬তম ডিজিটাল জনগণনা (Self-Enumeration Census) |
| অনলাইন পোর্টাল খোলা | ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৬ |
| বাড়ি বাড়ি যাচাইকরণ | ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| প্রধান বার্তা | শরণার্থীদের আইনি সুরক্ষা, অবৈধদের বহিষ্কার ও ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি |
ভোটের মুখে ১৬তম জনগণনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং সিএএ আওতাভুক্ত শরণার্থীদের আশ্বস্ত করে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া— দুইমিলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডিজিটাল ব্যবস্থার সাহায্যে একটি পরিচ্ছন্ন নাগরিক তালিকা তৈরিই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য।






