পরপর দু’বছর অনুপস্থিত! প্রোটোকল বিতর্ক নাকি অন্য কিছু? লালকেল্লার অনুষ্ঠানে কেন গেলেন না রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে?

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের (80th Independence Day) দিনে দিল্লির লালকেল্লায় উদযাপিত হলো জাতীয় স্তরের মূল অনুষ্ঠান। তবে জাতীয় এই উৎসবে ফের একবার চোখ টানে প্রথম সারির বিরোধী মুখগুলির অনুপস্থিতি। গত বছরের মতো এবারও লালকেল্লার অনুষ্ঠানে যোগ দেননি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি ইভেন্ট বয়কটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম চর্চা শুরু হয়েছে।
‘টেবিল অফ প্রেসিডেন্স’ ও ক্ষোভের কারণ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের অভিযোগ— তাঁদের পদমর্যাদা অনুযায়ী লালকেল্লায় প্রোটোকল মানা হয়নি এবং সঠিক সারিতে আসন দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতির সচিবালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘টেবিল অফ প্রেসিডেন্স’ বা পদমর্যাদাক্রম তালিকা অনুযায়ী, লোকসভার বিরোধী দলনেতার পদমর্যাদা একজন পূর্ণ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য। তা সত্ত্বেও উপযুক্ত সম্মান ও সামনের সারিতে জায়গা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তাঁরা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
[আসন বিন্যাস বিতর্ক ও ঘটনাচক্র]
* ২০২৪ স্বাধীনতা দিবস: রাহুল গান্ধীকে ৫ম সারিতে আসন দেওয়া হয় (প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি ছিল অলিম্পিয়ানদের সম্মান জানাতে এটি করা হয়েছিল)।
* ২০২৫ ও ২০২৬ প্রজাতন্ত্র দিবস: রাহুল ও খাড়গেকে ৩য় সারিতে বসানোর অভিযোগ।
* ২০২৫ ও ২০২৬ স্বাধীনতা দিবস: পরপর দুই বর্ষে লালকেল্লার অনুষ্ঠান বয়কট রাহুল-খাড়গের।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য
কংগ্রেসের তোপের মুখে এর আগেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পরিষ্কার করে জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানে আগত অ্যাথলিট ও অলিম্পিয়ানদের জায়গা করে দিতে আগে পরিবর্তন করা হয়েছিল। এছাড়া মন্ত্রকের দাবি, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস— উভয় ক্ষেত্রেই আসন বিন্যাস কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হয়নি; বরং সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ‘টেবিল অফ প্রেসিডেন্স’ মান্য করেই করা হয়েছিল।
লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর তোপ
এদিকে, এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভাষণে বিরোধীদের তীক্ষ্ণ আক্রমণ শাণান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা মহামারী, পেট্রোল-ডিজেলের দাম থেকে ইউক্রেন যুদ্ধকালীন সরবরাহ নিয়ে বিরোধীরা কীভাবে দেশবাসীকে ভয় পাইয়েছিল, তা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদির কথায়:
“অনেকে বলছেন ইউক্রেনে যুদ্ধ হচ্ছে, গ্যাস পাবেন না, পেট্রল পাম্পে তেল পাবেন না। কিছু লোকের আনন্দ হচ্ছিল দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে। চাষিদের ভয় দেখানো হচ্ছিল ইউরিয়া পাবেন না। কিন্তু দেশবাসী যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। করোনা থেকে জ্বালানি সংকট— সব কিছু নিয়েই অপপ্রচার করেছে বিরোধীরা।”
এক নজরে বিতর্কের প্রেক্ষাপট:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| ঘটনা | লালকেল্লায় ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন (২০২৬) |
| অনুপস্থিত নেতৃত্ব | রাহুল গান্ধী (বিরোধী দলনেতা), মল্লিকার্জুন খাড়গে (কংগ্রেস সভাপতি) |
| মূল অভিযোগ | ‘টেবিল অফ প্রেসিডেন্স’ অমান্য করে উপযুক্ত মানের আসন না দেওয়া |
| প্রশাসনের দাবি | সরকারি নিয়ম ও অগ্রাধিকারের তালিকা মেনেই আসন নির্ধারণ করা হয়েছে |
| রাজনৈতিক অবস্থান | সরকারি অনুষ্ঠানে প্রোটোকল অবমাননার অভিযোগে বিরোধীদের বয়কট ও প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা তোপ |
স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি দলমত নির্বিশেষে উদযাপিত হওয়া জাতীয় পর্বে প্রধান বিরোধী শিবিরের অনুপস্থিতি এবং আসন প্রোটোকল নিয়ে কেন্দ্রের সাথে দ্বন্দ্ব দেশের রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে বিরোধীদের ক্ষোভ এবং অন্যদিকে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা জবাব— দুইয়ে মিলে এই ঘটনা সংসদীয় রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।






