তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের মৃত্যু! বন্ধ এমার্জেন্সি গেট? তুলকালাম বিতর্ক

শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্রে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। তারাপীঠ থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ নামে একটি বেসরকারি হোটেলে ভোররাতে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হলো অন্তত ৮ জন পর্যটকের। অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার অ্যালার্ম না বাজা এবং আপদকালীন বেরোনোর দরজা (Emergency Exit) বন্ধ থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
ঘুমন্ত অবস্থায় জতুগৃহের রূপ ও ফায়ার অ্যালার্মের গাফিলতি
গভীর রাতে আবাসিকরা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই হোটেলের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে আগুনের শিখা। ধোঁয়ায় ঘর ভরে গেলে কোনোমতে বেরিয়েই পর্যটকরা দেখেন সামনে অগ্নিশিখা এগিয়ে আসছে।
আবাসিকদের অভিযোগ:
- এত বড় অগ্নিকাণ্ডের পরেও হোটেলে রাখা ফায়ার অ্যালার্ম (Fire Alarm) বাজতে শোনা যায়নি।
- হোটেলের ভেতর ফাইবারের ফলস সিলিং থাকায় আগুন মারাত্মক দ্রুততায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যায়।
- ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতিতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বারান্দার পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে জখম হন বেশ কয়েকজন।
[ঘটনার বিবরণী ও অভিযোগ]
১. সময়: ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ এসির MCB শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
২. ফলস সিলিং থাকার কারণে মুহূর্তের মধ্যে হোটেল ধোঁয়ায় ঢেকে জতুগৃহে পরিণত হয়।
৩. আবাসিকদের দাবি: এমার্জেন্সি এক্সিট লক করা ছিল এবং ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।
৪. পরিণতি: ৮ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও বহু আবাসিক গুরুতর আহত।
এমার্জেন্সি এক্সিট বন্ধের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি
বিপদের মুখে পড়ে আতঙ্কিত আবাসিকরা হোটেলের আপদকালীন দরজার (Emergency Exit) দিকে ছুটে যান। কিন্তু তাঁদের দাবি, সেই দরজা বন্ধ থাকায় বেরোনোর সুযোগ মেলেনি। অগত্যা রিসেপশনের প্রধান দরজা দিয়েই বেরোনোর মরিয়া চেষ্টা করেন তারা, যা ততক্ষণে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছিল।
অন্যদেহে হোটেলের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল পর্যটকদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান:
“ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ এসির এমসিবিতে শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। নিরাপত্তারক্ষীরা দেখতে পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন এবং ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করা হয়। হোটেলের পিছন দিকে এমার্জেন্সি এক্সিট এবং সিঁড়ি খোলাই ছিল, কিন্তু বহু পর্যটক সেই পথের বিষয়ে জানতেন না। ফলে রিসেপশন দিয়ে বেরোতে গিয়ে আগুনে ঝলসে সাত-আটজন প্রাণ হারান।”
মালিকের ছেলে আটক ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পৌঁছায় তারাপীঠ থানার পুলিশ ও দমকল বিভাগ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। তবে ইতিমধ্যেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ফায়ার লাইসেন্স খতিয়ে দেখতে হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
| বিতর্কিত বিষয় | আবাসিকদের দাবি | হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি |
| ফায়ার অ্যালার্ম | আগুন লাগার পর কোনো অ্যালার্ম বাজেনি | বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছিল |
| এমার্জেন্সি এক্সিট | দরজা লক ছিল, বেরোনো সম্ভব হয়নি | গেট খোলাই ছিল, পর্যটকরা রাস্তা চিনতে পারেননি |
| আগুনের কারণ | নিরাপত্তার গাফিলতি ও ফায়ার সেফটির অভাব | এসির MCB-তে আকস্মিক শর্ট সার্কিট |
ভোররাতের এই অগ্নিকাণ্ড হোটেলগুলির সুরক্ষা ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল। জরুরি পরিস্থিতিতে এমার্জেন্সি এক্সিট সচল ছিল না নাকি পর্যটকদের নির্দেশিকা অভাব ছিল—তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। তদন্তকারীরা সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছেন।






