পার্ক স্ট্রিটের হোম থেকে নিখোঁজ ৩ মহিলা: ১ জন বাংলাদেশি ও মূক-বধির, ৩ সপ্তাহ পর থানায় অপহরণের অভিযোগ!

রাজধানী কলকাতার কড়েয়া এলাকার একটি আশ্রয় হোম থেকে সম্প্রতি এক বাংলাদেশি নাবালিকা চম্পট দেওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় নিরাপত্তার গলদ প্রকাশ্যে এল। এবার পার্ক স্ট্রিটের (Park Street) এক নামী হোম থেকে একসঙ্গে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন তিন মহিলা। ঘটনার ২১ দিন পর হোম কর্তৃপক্ষের তরফে পুলিশে অপহরণের আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিযোগ দায়ের করায় হোম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিখোঁজ তিন মহিলার পরিচয়
উদ্ধার করার পর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই পুলিশ এই মহিলাদের পার্ক স্ট্রিটের ওই হোমে রেখেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে নিখোঁজ ৩ জন একই ঘরে থাকতেন এবং আগে থেকেই পালানোর ছক কষেছিলেন:
| নাম (Name) | বয়স (Age) | মূল বাসস্থান (Origin) | বিশেষ তথ্য / পটভূমি (Details) |
| রুনা বেগম | ৩১ বছর | গুলশন মডেল টাউন, ঢাকা (বাংলাদেশ) | কয়েক মাস আগে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এই হোমে রাখে। |
| সুচিত্রা | ৩৯ বছর | স্থানীয় (দীর্ঘদিনের নিবাসী) | তিনি কথা বলতে ও শুনতে পান না (মূক ও বধির)। |
| মনীশা কুমারী | ১৯ বছর | ভোজপুর (বিহার) | পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন। |
[নিখোঁজ ৩ মহিলার প্রাথমিক তালিকা]
├── রুনা বেগম (৩১, বাংলাদেশ)
├── সুচিত্রা (৩৯, মূক ও বধির)
└── মনীশা কুমারী (১৯, বিহার)
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল গভীর রাতের দৃশ্য
পুলিশ তদন্তে নেমে হোমের ভেতরের ও বাইরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়েছিল।
- সময়: রাত ২:০০ টা থেকে ২:৩০ মিনিটের মধ্যে।
- কৌশল: মুখ কাপড়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় হোমের মূল গেটের আসল চাবি ব্যবহার করে তালা খোলা হয়।
- পরিকল্পনা: তিন সপ্তাহ আগেই তাঁরা তিনজন মিলে চম্পট দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২১ দিন পর কেন থানায় অভিযোগ? রহস্য ও পুলিশের ভূমিকা
ঘটনার পরের দিন সকালেই ৩ জনের না থাকার বিষয়টি হোম কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান চালানো হলেও তাঁদের খোঁজ মেলেনি। এরপর ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পর পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ জানায় হোম কর্তৃপক্ষ।
হোমের আশঙ্কা, কোনো মানব পাচারকারী চক্র তাঁদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে অপহরণ করে লুকিয়ে রাখতে পারে। অন্যদিকে, পুলিশ কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না। ওই বাংলাদেশি যুবতী চোরাপথে সীমান্তে পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এত দীর্ঘ সময় পর কেন পুলিশকে জানানো হলো, তা নিয়ে হোম কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা ভূমিকা খতিয়ে দেখছে লালবাজার।
কড়েয়ার পর পার্ক স্ট্রিটের নিরাপদ আশ্রয় হোম থেকে এভাবে একাধিক মহিলার রহস্যজনক অন্তর্ধান শহরের আশ্রয় হোমগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। পুলিশ ইতিমধ্যেই কলকাতা জুড়ে সতর্কবার্তা জারির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়িয়েছে।






