মহারাষ্ট্রের আসল ‘সিংহম’ তুখারাম মুন্ডে: ডমিনোজ-পিজ্জা হাটের লাইসেন্স বাতিল থেকে শাহরুখকে নোটিস; কে এই আইএএস অফিসার?

কখনও বাজার থেকে ৩০ লক্ষ কেজির ভেজাল খাবার বাজেয়াপ্ত করা, কখনও ডমিনোজ কিংবা পিজ্জা হাটের মতো বহুজাতিক ব্র্যান্ডের লাইসেন্স বাতিল করা, আবার কখনও উদ্ভিজ্জ চর্বি যুক্ত ‘অ্যানালগ’ পনির ব্যান করা—মহারাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এক আইএএস অফিসার। নাম তাঁর তুখারাম মুন্ডে (Tukaram Mundhe)। সম্প্রতি ‘বিমল পান মশলা’র পরোক্ষ প্রচারের অভিযোগে বলিউডের কিং অফ রোম্যান্স শাহরুখ খান সহ অজয় দেবগণ ও টাইগার শ্রফকে আইনি নোটিস পাঠানোর পর থেকেই পুরো দেশজুড়ে চর্চায় এই আমলা। নেটিজেনরা ইতিমধ্যেই তাঁকে মহারাষ্ট্রের আসল ‘সিংহম’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
মাত্র দুই মাসে বিশাল অভিযান ও রেকর্ড পদক্ষেপ
গত ২৫ মে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর কমিশনার পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ২০০৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার তুখারাম মুন্ডে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন।
[তুখারাম মুন্ডের ২ মাসের অভিযানের রিপোর্ট]
৩০০০+ হোটেল ও রেস্তরাঁয় আচমকা হানা
├── ১৬৫টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল (ডমিনোজ ও পিজ্জা হাট অন্তর্ভুক্ত)
├── ৩৫০+ অসাধু ব্যবসায়ী ও ভেজাল কারবারি গ্রেফতার
├── ৩০ লক্ষ কেজি ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজেয়াপ্ত
└── ১ বছরের জন্য 'অ্যানালগ' (নকল) পনির উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ
শাহরুখ, অজয় ও টাইগারকে আইনি নোটিস
তুখারাম মুন্ডের সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপটি ছিল বলিউড তারকাদের বিরুদ্ধে। সুরভিসুগন্ধি ও পান মশলার পরোক্ষ বিজ্ঞাপনে (Surrogate Advertising) অংশ নেওয়ার অভিযোগে শাহরুখ খান, অজয় দেবগণ এবং টাইগার শ্রফ-কে এফডিএ-র পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে এই ধরনের ক্ষতিকারক পণ্যের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার।

দারিদ্র্য থেকে প্রশাসনিক ‘সিংহম’: বদলিই যার মূল শক্তি
তুখারামের এই লড়াইয়ের গল্প সহজ ছিল না। শৈশবে বাবার সঙ্গে চাষের খেতে কাজ করা থেকে শুরু করে হাটে সবজি বিক্রি করে বড় হওয়া এই অফিসার কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ২০০৫ সালে আইএএস হন।
| কাজের জায়গা/পোস্টিং | নেওয়া ঐতিহাসিক পদক্ষেপ | প্রভাব/পরিণাম |
| শোলাপুর (কালেক্টর) | শতাধিক গ্রামে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পানীয় জলের ব্যবস্থা। | গ্রামীণ জলের সংকট দূর হয়। |
| নবি মুম্বই (কমিশনার) | বেআইনি নির্মাণ ও হোর্ডিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। | রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বদলি। |
| এফডিএ মহারাষ্ট্র | ভেজাল খাদ্য ও সেলিব্রিটি প্রমোশনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান। | ব্যাপক জনসমর্থন ও ‘সিংহম’ খেতাব। |
নিজের ২১ বছরের কর্মজীবনে অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করায় তাঁকে ২৫ বার বদলি হতে হয়েছে। তবে বারবার বদলিকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তাঁর মতে, নতুন বদলি মানে নতুন জায়গায় কাজ করার নতুন সুযোগ।
জনতার দরবারে বীরের সম্মান পেলেও প্রচার ও মাতামাতি এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন তুখারাম মুন্ডে। রাজনীতিতে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, একজন আইএএস অফিসার হিসেবে নিজের দায়িত্বটুকু নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। মহারাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনও আপস করবেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই সৎ অফিসার।






