তারাপীঠে হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ বাঁচাতে কেউ কি ঝাঁপ দিয়েছিলেন পুকুরে? জলে নেমে তল্লাশি ডুবুরিদের

তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ন’জনে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন, মঙ্গলবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে মাঠে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষ প্রতিনিধি দল (NDRF)। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ার গ্রাস থেকে বাঁচতে হোটেলের আবাসিকরা পাশের পুকুরের জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই তারাপীঠের ওই হোটেলের পার্শ্ববর্তী পুকুরে স্পিডবোট নামানো হয়। পাশাপাশি জলের ভেতরে নামানো হয় প্রশিক্ষিত ডুবুরিদের। পুকুরের গভীর জলে নেমে তলার দিক পর্যন্ত তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালান তাঁরা। অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কিত আবাসিকরা প্রাণভয়ে অন্য কোনো পালানোর পথ না পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না এবং জলে নিখোঁজ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, মূলত সেই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হোটেলের গাফিলতি ও গ্রেপ্তার:
উল্লেখ্য, সোমবার ভোররাতে তারাপীঠ থানা সংলগ্ন ওই বেসরকারি হোটেলে হঠাৎই ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো চত্বরে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় হোটেলের এমার্জেন্সি গেট বা জরুরি নির্গমন পথটি খোলা ছিল না এবং কাজ করেনি কোনো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও। মালিকপক্ষের এই চরম গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই হোটেল মালিকের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
ময়নাতদন্ত ও মৃতদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া:
অন্যদিকে, আগুনে নিহত ন’জনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের পাঁচ বাসিন্দার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের মৃতদেহ ইতিমধ্যেই মেঘালয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, আলিপুরদুয়ারের চার বাসিন্দার ময়নাতদন্ত মঙ্গলবার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।






