জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা কেজরিওয়ালের

দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির নেতা সত্যেন্দ্র জৈনকে। তদন্তে এই ঘটনায় মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেপ্তারের পরই সত্যেন্দ্র জৈনের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, সাজানো এবং ভুয়ো মামলায় সত্যেন্দ্র জৈনকে ফাঁসানো হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিল আম আদমি পার্টি। নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ঝাড়ুকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছিল দলটি। সেই আপেরই একাধিক নেতার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং তাঁদের জেলেও যেতে হয়েছে।
এর আগে আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া এবং সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে মন্ত্রী থাকাকালীন ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এবার দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার সংক্রান্ত মামলায় ফের গ্রেপ্তার হলেন সত্যেন্দ্র জৈন।
গ্রেপ্তারের পর এক্স হ্যান্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপির নির্দেশেই সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেজরিওয়াল লেখেন, ‘বিজেপির নির্দেশে সত্যেন্দ্র জৈন জি-কে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই তাঁকে জেলে আটকে রেখে যে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা সবারই মনে আছে।’
এরপরই আগের মামলার প্রসঙ্গ তুলে আপ সুপ্রিমো দাবি করেন, আগের মামলাটিও সাজানো ছিল এবং বর্তমান মামলাটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘বিজেপির এই স্বৈরাচার আর কতদিন চলবে?’
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বিজেপি যাকে খুশি মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে জেলে পাঠাচ্ছে। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপির ‘মিথ্যাচার’ প্রকাশ্যে আসবে। তবে ততদিনে জেলে কাটানো সময় এবং মানসিক যন্ত্রণার যে ক্ষতি হবে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আপ সুপ্রিমো আরও লেখেন, ‘বিজেপির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে উপচে পড়েছে।’ তাঁর দাবি, যতই ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ করা হোক না কেন, মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত।
শেষে সত্যেন্দ্র জৈনের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে কেজরিওয়াল জানান, ‘সমগ্র আম আদমি পার্টি এবং দেশের জনগণ সত্যেন্দ্র জৈনের পাশে রয়েছে, দৃঢ়ভাবে।’
অন্যদিকে, জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগের তদন্তেই সত্যেন্দ্র জৈন-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগগুলির সত্যতা কী, তদন্তে তারই উত্তর খোঁজা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলের দিকেও নজর রয়েছে।






