তারাপীঠ থেকে নিউমার্কেট: মাত্র দুদিনের ব্যবধানে দুই অগ্নিকাণ্ডেই মৃত ৯! নেপথ্যে কি কোনো গ্রহের ফের?

তারাপীঠের পর নিউমার্কেট—মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি (উভয় ক্ষেত্রেই ৯ জন) এক অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয় হিসেবে মনে হলেও, এর নেপথ্যে জ্যোতিষশাস্ত্র ও সংখ্যাতত্ত্বের নিজস্ব কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে।
সোমবার কাকভোরে আগুন গ্রাস করেছিল তারাপীঠের একটি হোটেলকে। আর ঠিক দু’দিনের ব্যবধানে নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলেও একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং রহস্যজনক বিষয় হলো, উভয় ক্ষেত্রেই মৃতের সংখ্যা ঠিক ৯ জন। আপাতদৃষ্টিতে এটি কাকতালীয় মনে হলেও, এই পরিসংখ্যানের নেপথ্যে জ্যোতিষশাস্ত্র ও সংখ্যাতত্ত্বের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
সংখ্যাতত্ত্ব ও গ্রহের সংযোগ
জ্যোতিষশাস্ত্র ও সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালটি হলো সূর্যের বছর (যেহেতু ২+০+২+৬ যোগ করলে ১০ অর্থাৎ ১ হয়)। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে ‘১’ হলো সূর্যের সংখ্যা এবং সূর্যকে আগুনের প্রতীক তথা আত্মা হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, আগুনের কারক গ্রহ হলো মঙ্গল এবং মঙ্গলের নির্দিষ্ট সংখ্যা হলো ৯। ফলে এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে সূর্য ও মঙ্গলের একটি বিশেষ যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে বিখ্যাত জ্যোতিষশাস্ত্রবিদ সৌভিক ঘোষের মতে, কেবল সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, “হোটেল মানে তো সেখানে মাত্র ৯ জন ছিলেন এমনটা নয়, আরও অনেকেই ছিলেন। কিন্তু প্রাণনাশ হলো কেবল ৯ জনের, কারণ এই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মছকে ঠিক এভাবেই মৃত্যু লেখা ছিল।” অর্থাৎ মৃতদের জন্মছকের গ্রহের দশা বা অন্তর্দশার ফলেই এমন আকস্মিক পরিণতি ঘটেছে।

সঙ্গদোষ ও বাস্তু ত্রুটির প্রভাব
জ্যোতিষশাস্ত্রবিদ আরও উল্লেখ করেছেন যে জন্মছকে সরাসরি যোগ না থাকলেও অনেক সময় ‘সঙ্গদোষ’ বা অন্যের কর্মফলের প্রভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কারও সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব বা পথ অতিক্রম করার ফলে তাঁর কর্মফলের কিছুটা প্রভাব আশপাশের মানুষের ওপর পড়তে পারে। এছাড়া কোনো ভবনের বাস্তুগত ত্রুটি থাকলে এবং তা সংশোধন না করা হলে সেখানে আগুন বা বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে হোটেলের সার্বিক পরিস্থিতি ও মৃতদের জন্মছক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার না করে নিশ্চিতভাবে একক কোনো কারণ বলা সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।






