নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ডের ফরেনসিক রিপোর্ট: এসি থেকেই বিষাক্ত ধোঁয়া! ধোঁয়ায় শ্বাস আটকে মৃত্যু ৯ আবাসিকের, গ্রেপ্তার ১

তারাপীঠের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি টাটকা থাকতেই কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এ বুধবার ভোররাতে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে ফরেনসিক দল প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে আগুন লাগা ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ স্পষ্ট হয়েছে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ৯ জন আবাসিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন।
ফরেনসিক পরীক্ষায় ফাঁস অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ফরেনসিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হোটেলের তিনতলার রিসেপশনের কাছে থাকা এসির বৈদ্যুতিক তার বা পোর্ট থেকে বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
[অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাক্রম]
তিনতলার এসির তার/পোর্ট অতিরিক্ত গরম হয়ে ফুলে ওঠা
└── ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকে তার ফেটে আগুন লাগা
└── বিষাক্ত কালো ধোঁয়া সম্পূর্ণ ভবনে ছড়িয়ে পড়া
└── ঘরগুলিতে আটকে পড়া ৯ জন আবাসিকের দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু
মর্মান্তিক প্রাণহানি ও নিহতদের পরিচয়
অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচানোর আকুল চেষ্টা করেও ঘরের মধ্যে বিষাক্ত ধোঁয়া ভরে যাওয়ায় বাইরে বের হতে পারেননি অনেকে।
| মৃত ও প্রভাবিত ব্যক্তি | পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য |
| বাংলাদেশি সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার | চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন। দুইজনের দেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার হয়। |
| সন্দীপ পাসোয়ান | ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা, রিসেপশনের পাশের ঘরেই ছিলেন। তাঁর বুকে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। |
| অন্যান্য আবাসিক | ধোঁয়ায় শ্বাস আটকে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয় (বৃহস্পতিবার মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে)। |
পুলিশি পদক্ষেপ ও লিজ হোল্ডার গ্রেপ্তার
ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গলদ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীদের দাবি, হোটেলে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।
পুলিশ সূত্রে খবর:
- হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফর-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
- ঘটনার পর থেকেই পলাতক হোটেলের মূল মালিক, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
কলকাতার মতো জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় কোনো রূপ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে হোটেলটি চলছিল, তা নিয়ে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশি তদন্তের সাথে সাথে নিখোঁজ মালিকের সন্ধান ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে।






