যাদবপুরের পর এবার প্রেসিডেন্সিতেও অশান্তির ছক! এবিভিপি-এসএফআই দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত কলেজ স্ট্রিট

- প্রেসিডেন্সিতে উত্তাপ: যাদবপুরের সংঘর্ষের উত্তাপ এবার পৌঁছাল উত্তর কলকাতার ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- গেটের সামনে মুখোমুখি: শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এবিভিপি (ABVP) ও এসএফআই (SFI) সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগান।
- পোস্টার কেন্দ্রিক বিবাদ: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির তাণ্ডবের প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠন যখন পোর্টিকোয় পোস্টার লিখছিল, ঠিক তখনই বাইরে জমায়েত করে গেরুয়া সমর্থকেরা।
- নিরাপত্তা জোরদার: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কীভাবে সূত্রপাত এই উত্তেজনার?
বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টিকোয় পোস্টার লেখার কর্মসূচি নিয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)।
- হুঁশিয়ারি ও পোস্টারিং: পোস্টার লিখে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে সাঁটানোর সময় অভিযোগ ওঠে, গেটের বাইরে প্রায় ৩০ জন এবিভিপি সদস্য ও বহিরাগত জমায়েত হয়।
- কুকথা ও পাল্টা স্লোগান: বাম ছাত্রদের লক্ষ্য করে এবিভিপি সমর্থকেরা নানা হুঁশিয়ারি ও বিতর্কিত মন্তব্য ছুড়তে থাকে বলে অভিযোগ। এর জবাবে এসএফআই সমর্থকেরা ক্যাম্পাসের ভেতরের গেটের সামনে এসে পাল্টা স্লোগান তুলতে শুরু করলে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
[যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্সিতে পোস্টারিং] ➔ [গেটের বাইরে এবিভিপির জমায়েত ও হুঁশিয়ারি] ➔ [এসএফআই-এর পাল্টা স্লোগান ও ক্যাম্পাসে আতঙ্ক]
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও তোপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী:
| সংগঠন | নেতা/পক্ষ | প্রধান অভিযোগ ও বক্তব্য |
| এসএফআই (SFI) | বিতান ইসলাম (নেতা) | “ক্যাম্পাসে এবিভিপির নিজস্ব সংগঠন নেই। বহিরাগতদের এনে গুন্ডাগিরি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত চিন্তার স্বাধীন পরিবেশ রয়েছে, বেছে বেছে সেখানেই হামলা চালাচ্ছে এবিভিপি।” |
| এবিভিপি (ABVP) | উত্তর কলকাতা নেতৃত্ব | “যাদবপুরের মতোই প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েও নানাবিধ ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপ চালানো হয়। তা বন্ধ করতে এবং ওদের সঠিক ‘সবক’ শেখাতেই এই পদক্ষেপ।” |
সাধারণ পড়ুয়াদের আতঙ্ক ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
দুই শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে হঠাৎ করেই কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে আটকে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসের ভেতরেই বেশ কিছু সময় কাটাতে হয় তাঁদের। পরবর্তীতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে নিরাপত্তা বাড়ায় প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্সিতে ঐতিহ্যগতভাবেই ‘ইন্ডিপেন্ডেন্টস সমষ্টি’ (IC) এবং এসএফআই-এর দাপট বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সির মতো প্রথাবিরোধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ডান ও বাম রাজনৈতিক সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।
যাদবপুরের আঁচে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন থেকে কী ধরনের কড়া পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।






