যাদবপুরে উত্তাপ অব্যাহত: ‘আজাদি’ স্লোগান ও মাওবাদী প্ল্যাকার্ড ঘিরে বিতর্ক, দ্বিখণ্ডিত শিক্ষক সংগঠন জুটা!

সংঘর্ষের রেশ: অরবিন্দ ভবনে ফেটসু (FETSU)-র জেনারেল বডি মিটিং ঘিরে বুধ ও বৃহস্পতিবার এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির চরম সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর।
ঐতিহ্যবাহী চিহ্নের ক্ষতি: ৪ নম্বর গেটের কাছে অবস্থিত বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামাঙ্কিত এনব্লেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দোষারোপ।
আজাদি স্লোগান ঘিরে বিতর্ক: ‘গেরুয়া সন্ত্রাসে’র প্রতিবাদে শুক্রবার আয়োজিত বামেদের সমাবেশে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং ‘আজাদি’ স্লোগান ও মাওবাদী বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন।
শিক্ষক সংগঠনে বিভাজন: বিতর্কিত এই সমাবেশের সমর্থনে ও বিরোধিতায় যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (JUTA) দ্বিখণ্ডিত।
অশান্তির সূত্রপাত ও নন্দলাল বসুর প্রতীকে আঘাত
বুধবার রাতে ফেটসু (FETSU)-র সাধারণ সভা চলাকালীন অরবিন্দ ভবনে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এবিভিপি (ABVP) ও বামপন্থী ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়।
- পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: বামেদের দাবি, সভা চলাকালীন এবিভিপির সদস্যরা ঢুকে হামলা চালায়। অন্যদিকে এবিভিপির বক্তব্য, সভার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের ওপর চড়াও হয় বামপন্থীরা। এই ঘটনায় একাধিক ছাত্র হাসপাতালে ভর্তি হন।
- ঐতিহ্যে আঘাত: বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে মিছিল বের করলে ৪ নম্বর গেটের কাছে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই সময় প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী নামাঙ্কিত প্রতীকটির (Emblem) ক্ষতি হয়, যা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
[অরবিন্দ ভবনে জিবি মিটিং কেন্দ্রিক বিবাদ] ➔ [ক্যাম্পাসে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ] ➔ [নন্দলাল বসুর প্রতীকের ক্ষতি]
শুক্রবারের সমাবেশ: আজাদি স্লোগান ও মাওবাদী প্ল্যাকার্ড
শুক্রবার এসএফআই (SFI), ডিএসও (DSO) এবং আইসা (AISA)-র যৌথ উদ্যোগে ক্যাম্পাসের ভেতরের মাঠে ‘গেরুয়া সন্ত্রাসে’র বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
তবে এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়:
- বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ: অভিযোগ ওঠে, বামেদের এই প্রতিবাদ সভায় প্রচুর বহিরাগত ঢুকে পড়ে।
- বিতর্কিত স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড: সেখান থেকেই ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠে। শিক্ষার্থীদের হাতে মাওবাদীদের বিখ্যাত স্লোগান— “শতফুল বিকশিত হোক, শত ভাবনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক” লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
- এবিভিপির তোপ: দীর্ঘদিন ধরে এবিভিপি অভিযোগ তুলে আসছিল যে, যাদবপুরে ‘শহুরে নকশাল’রা সক্রিয় এবং দেশবিরোধী কাজকর্ম চলে। শুক্রবারের ঘটনাকে তারা নিজেদের দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’ (JUTA) দ্বিখণ্ডিত
ক্যাম্পাসের এই অনভিপ্রেত ঘটনায় শিক্ষকদের সংগঠন ‘যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (JUTA) দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
| সদস্য/পদ | অবস্থান ও বক্তব্য |
| রাজ্যেশ্বর রায় (সম্পাদক, জুটা) | এটি স্পষ্টতই বহিরাগতদের সমাবেশ। নীতিগত কারণে তিনি এই ধরনের প্রতিবাদে শামিল হবেন না। |
| পার্থপ্রতিম রায় (সভাপতি, জুটা) | ইস্যুভিত্তিক যে কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে তিনি সমর্থন জানান। |
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক বিবাদ, ঐতিহ্যবাহী স্মারকের ক্ষতি এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক স্লোগান শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর অন্যদিকে ‘দেশবিরোধী’ তকমার লড়াইতে যাদবপুরের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।






