কেন ছেলেকে বকাবকি? বনগাঁয় স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষককে বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর অভিভাবকের, আটক অভিযুক্ত

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মারধরের অভিযোগ
সোমবার বনগাঁর গোপালনগর থানার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী হরিপদ ইন্সটিটিউশনে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলছিল। ক্লাসরুমে কাজ চলাকালীন কয়েকজন ছাত্র ভীষণ হইচই ও গোলমাল করছিল। বারংবার বারণ করা সত্ত্বেও কথা না শোনায় বাংলার শিক্ষক অরুণ দাস দু-একজন ছাত্রকে শাসন করেন।
অভিযোগ, এরপরই এক ছাত্র ফোন করে তার বাবা দেবব্রত দাসকে স্কুলে ডেকে পাঠায়। বেলায় স্কুলে পৌঁছে সরাসরি প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলের ঘরে ঢুকে গোলমাল শুরু করেন ওই অভিভাবক।
[ক্লাসে রেজিস্ট্রেশন চলাকালীন হইচই] ➔ [শিক্ষকের শাসন ও ছাত্রের ফোন] ➔ [অভিভাবক দেবব্রত দাসের আগমন] ➔ [প্রধান শিক্ষকের ঘরে বেল্ট খুলে বেধড়ক পেটাই]
ঘটনার বিবরণ ও শিক্ষকদের বক্তব্য
কথাবার্তা চলাকালীন আচমকা কোমরের বেল্ট খুলে বাংলার শিক্ষক অরুণ বাবুর ওপর চড়াও হন দেবব্রত দাস। তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলও বেল্টের আঘাতে রক্তাক্ত ও আহত হন। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা এসে অভিযুক্তকে নিরস্ত করেন।
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | গোপালনগর হরিপদ ইন্সটিটিউশন, বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা। |
| আক্রান্ত শিক্ষকদ্বয় | অরুণ দাস (বাংলার শিক্ষক) ও সমরেশচন্দ্র মণ্ডল (প্রধান শিক্ষক)। |
| অভিযুক্ত অভিভাবক | দেবব্রত দাস। |
| শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া | “স্কুলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ন্যূনতম শাসন করতে হয়। এভাবে হামলা হলে পঠনপাঠন চালানো অসম্ভব।” |
আতঙ্ক ও পুলিশি পদক্ষেপ
ঘটনায় মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এ বিষয়ে গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষকরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত দেবব্রত দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরাপত্তার অভাব এবং ছাত্রদের ন্যূনতম শাসন করা নিয়েও অভিভাবকদের এহেন হিংসাত্মক আচরণ শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।






