একই পোশাকে পুলিশ ও ধৃতরা, সাজানো নাটকের অভিযোগ! রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ খুনে তদন্তভার নিল ডিবি

কেন পুলিশের বিরুদ্ধে ‘সাজানো নাটক’-এর অভিযোগ?
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর ছাত্রী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ম (১২)— এই চারজনের নৃশংস মৃত্যুর পর দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের দেওয়া তদন্ত রিপোর্ট ও সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও নিহতদের স্বজনেরা।
[তালাবন্ধ বাড়ি থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার] ➔ [পুলিশের দ্রুত ২ যুবক গ্রেপ্তার ও 'ছাদে মাদক সেবন' তত্ত্ব] ➔ [একই পোশাকে পুলিশ-আসামি ও অসম্পূর্ণ বয়ান] ➔ [জনগণের তীব্র প্রতিবাদ ও ডিবির হাতে তদন্ত স্থানান্তর]

( জনরোষ ও অসন্তোষের মুখে রংপুরে ৪ খুন মামলার তদন্তের দায়িত্বে এখন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ )
ঘটনার মূল ধন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রশ্নাবলি
পুলিশের দাবি ছিল, ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ওই চারজনকে শ্বাসরোধ করে খুন করে অভিযুক্তরা সারা রাত ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। কিন্তু এই তত্ত্ব মানতে নারাজ সচেতন নাগরিক সমাজ।
| প্রশ্ন ও ধন্দের জায়গা | নাগরিক সমাজ ও স্বজনদের দাবি |
| আসামি ও পুলিশের পোশাক | ধৃত আসামি এবং তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়া নিয়ে বড়সড় সন্দেহ তৈরি হয়েছে। |
| পাওয়ার কাট ও সময় | ছাদে মাদক সেবনের জন্য আগেভাগে কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো, আর খুনের পর লম্বা সময় ধরে সেখানেই বা কেন অবস্থান করল অভিযুক্তরা? |
| দুই তরুণের ক্ষমতা | মাত্র দুই তরুণের পক্ষে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি ছাড়া একা চারজনকে কাবু ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা কতটা সম্ভব? |
| প্রভাবশালীদের আড়াল | স্থানীয়দের দাবি, মূল অপরাধী বা প্রভাবশালী কোনো পক্ষকে আড়াল করতেই এমন ‘কাঁচা গল্প’ সাজানো হয়েছে। |
তদন্তভার ডিবির হাতে ও নতুন মোড়
তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের মুখে কোতোয়ালি থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) মিলন চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে মামলার যাবতীয় নথি হস্তান্তরিত হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের ইনস্পেক্টর জিন্নাত আলির কাছে। ইতোমধ্যে পুরাতন ও নতুন তদন্তকারী দল যৌথভাবে মাছুয়াপাড়ার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। যদিও আসামিরা আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে, তবুও ঘটনাটির পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা প্রভাবশালী কেউ রয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখতে বিদ্যুতের লাইন কাটা ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্বিশ্লেষণ করছে ডিবি।
একটি পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পুলিশের তড়িঘড়ি দেওয়া বয়ান জনমনে স্বস্তির বদলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ডিবির হাতে তদন্তভার যাওয়ায় এখন দেখার বিষয়— আসল রহস্য উন্মোচিত হয়ে নিহতদের পরিবার সুবিচার পায় কি না।






