অন্ধ্রপ্রদেশে গোদাবরীতে সপরিবার আত্মহত্যা: সুইসাইড নোটে রাইফেল শুটিং কোচের নাম, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

গোদাবরী নদীতে সপরিবার ঝাঁপ: অলৌকিকভাবে রক্ষা ১০ বছরের শিশুর
অন্ধ্রপ্রদেশে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজামাহেন্দ্রভরম রেলসেতু থেকে গোদাবরী নদীতে সপরিবারে ঝাঁপ দেন প্রকৌশলী থিলাপুরি নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী মীনা, কন্যা সৌজন্য এবং ১০ বছরের নাতি।
সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্যটি নদীর মাঝখানে থাকা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের চোখে পড়লে তাঁরা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় ১০ বছরের শিশুটি অলৌকিকভাবে প্রাণ পেলেও বাকী ৩ জনের জলেই ডুবে মৃত্যু হয়।
সুইসাইড নোটে অভিযুক্ত শুটিং কোচ ও চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরক তথ্য
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। সেখানে এই মৃত্যুর জন্য রাইফেল শুটিং কোচ শেখ সাদিক খানকে দায়ী করা হয়েছে। পুলিশের সূত্রে খবর, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবারটির সঙ্গে সাদিকের পরিচয় ছিল।
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| নিহত ব্যক্তিগণ | প্রকৌশলী থিলাপুরি নুকারাজু, স্ত্রী মীনা ও কন্যা সৌজন্য (১০ বছরের নাতি জীবিত উদ্ধার)। |
| মূল অভিযুক্ত | রাইফেল শুটিং কোচ শেখ সাদিক খান। |
| গ্রেপ্তারের স্থান | মেরঠ, উত্তরপ্রদেশ (ট্রানজিট রিমান্ডে অন্ধ্রে আনা হচ্ছে)। |
| উত্থিত অভিযোগ | মানসিক অত্যাচার, অর্থ আদায়, জোর করে ধর্মান্তরণ ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত। |
এনআইএ বা সিবিআই তদন্তের দাবি ও পুলিশের অবস্থান
ঘটনার পরেই এই মৃত্যুর নেপথ্যে ধর্মান্তরণ ও আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদ বিজয়সাই রেড্ডি। তাঁর দাবি, সাদিক খান ১০ সদস্যের একটি অপরাধী দলের অংশ, যারা কাকিনাড়া ও রাজামহেন্দ্রভরমের আরও অন্তত ১৫টি পরিবারকে হেনস্থা ও ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছিল। তিনি মামলাটি সিবিআই বা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
কাকিনাড়ার পুলিশ সুপার বিন্দু মাধব জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দেওয়া অভিযুক্ত সাদিক খানকে উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালালেই মূল রহস্য ও ধর্মান্তরণের অভিযোগের সত্যি উন্মোচিত হবে।






