নেপালে হড়পা বানের তাণ্ডব! তিব্বতে চিনের দৈত্যাকার বাঁধকে ‘টাইমবোমা’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, ভারতের পাল্টা ‘সিয়াং’ চাল

- নেপালে বিপর্যয়: তিব্বত সীমান্ত থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক হড়পা বানে প্লাবিত নেপালের রসুয়া জেলা। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, গাড়ি ও সেতু।
- চিনের মেগা বাঁধ: তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (ভারতে সিয়াং/ব্রহ্মপুত্র) নদীতে চিনের নির্মাণাধীন বিশাল বাঁধ নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর (ভারত ও বাংলাদেশ) জন্য ‘জল-বোমা’ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
- পরিবেশ ও জলের সংকট: বাঁধের ফলে শুষ্ক মরশুমে নিম্ন অববাহিকায় জলের প্রবাহ ৮৫% পর্যন্ত কমে যাওয়া এবং পলি পরিবহণ থমকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
- ভারতের পাল্টা পদক্ষেপ: সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরে অরুণাচল প্রদেশে ১১,০০০ মেগাওয়াটের ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট’ নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি।
নেপালের বিপর্যয়ে চিনের ছায়া: কাঠমান্ডুর উদ্বেগ
নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক হড়পা বানের মূল সূত্রপাত চিনের তিব্বত অঞ্চল থেকে। তিব্বতের হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের জল উপচে বা ধসে পড়া বরফের কারণে ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, তিব্বতের গোসাইকুন্ডা উত্তরে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প এবং বরফ ধসের ফলে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক ঘটনা প্রমাণ করছে পাহাড়ি হিমালয় অঞ্চলে উজানের বাঁধ বা জলাধার সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা নিম্ন অববাহিকায় কী পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।

তিব্বতের চিনা বাঁধ ও ভারতের নিরাপত্তা সংকট
তিব্বত থেকে উৎপন্ন ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে অরুণাচল প্রদেশে ‘সিয়াং’ এবং অসমে প্রবেশ করে ‘ব্রহ্মপুত্র’ নামে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীর উপর বেজিং তৈরি করছে পৃথিবীর বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
| বিষয় | বিবরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব |
| জলের প্রবাহ হ্রাস | গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক মরশুমে জলপ্রবাহ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। |
| কৃষি ও পরিবেশ | ভারত ও বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যচাষ ও শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পলি আটকে গিয়ে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হবে। |
| কৌশলগত হুমকি | কৃত্রিমভাবে জল আটকে রাখা কিংবা একযোগে বিপুল জল ছেড়ে দিয়ে অসমে কৃত্রিম বন্যা তৈরির সুযোগ থাকবে বেজিংয়ের হাতে। |
নয়াদিল্লির পাল্টা ‘সিয়াং’ মাস্টারপ্ল্যান
চিন এই প্রকল্পকে কেবল “বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যম” বলে দাবি করলেও ভারত কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। চিনা জল-কূটনীতির জবাব দিতে অরুণাচল প্রদেশে ভারত শুরু করছে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট (Siang Upper Multipurpose Project)।
প্রস্তাবিত এই ভারতীয় প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে তা হবে দেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি একদিকে যেমন ১,১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করবে, তেমনই চিনের হঠাৎ বিপুল জল ছেড়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে জল ধরে রেখে অসম ও অরুণাচলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ‘সুরক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করবে।






