
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পাশাপাশি একই দুর্যোগের অভিঘাতে বিপর্যস্ত তিব্বতও। বুধবারের ঘটনার পর বরফ, পাথর, কাদা ও জলের ভয়াবহ স্রোতের একাধিক ছবি ও ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, কিছু সময়ের মধ্যেই সেই ভিডিয়ো ও ছবির বেশ কয়েকটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—তিব্বতের ভয়াবহ বন্যা বিপর্যয়ের ছবি কি ইচ্ছাকৃত ভাবে আড়াল করা হচ্ছে?
ভাইরাল ভিডিয়োয় ভয়াবহ পরিস্থিতি
বুধবার তিব্বতের গাইরং এলাকায় আচমকাই বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও জল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকার একাধিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় বহু মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়তে দেখা যায়। তবে ভিডিয়োটির সত্যতা ও নির্দিষ্ট স্থান স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কেন উধাও বিপর্যয়ের ছবি?
অভিযোগ উঠেছে, চিনা সমাজমাধ্যম থেকে ওই ভিডিয়ো-সহ তিব্বতের বিপর্যয়ের আরও বেশ কিছু ছবি ও ভিডিয়ো পরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি চিনা সংবাদমাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত কিছু সাক্ষাৎকারও নাকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আর অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
এর পরেই বেজিংয়ের তথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই পোস্ট বা প্রতিবেদন সরানোর পিছনে চিনা সরকারের সরাসরি নির্দেশ ছিল কি না, তার কোনও স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি।

মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা
বিপর্যয়ের পর তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক ভাবে ৫৫৮ জন নিখোঁজ এবং তাঁদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক থাকার কথা বলা হয়েছিল। চিনা কর্তৃপক্ষের তরফে প্রাথমিক ভাবে পাঁচ জনের মৃত্যুর খবরও জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চিনা প্রতিবেদনে আরও বেশি হতাহতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ফলে তিব্বতে প্রকৃত মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা কত, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের অভিযোগ, উদ্ধার ও ত্রাণকাজের খবর সামনে আনা হলেও বিপর্যয়ের প্রকৃত ভয়াবহ ছবি প্রকাশ্যে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অবশ্য নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—তিব্বতের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত ছবি কবে সম্পূর্ণ ভাবে সামনে আসবে?






