
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে পাঁচ দিন। কিন্তু এখনও থামেনি ধ্বংসের হিসাব। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৯০৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ ৪২০০-রও বেশি মানুষ। এরই মধ্যে বিপর্যয়ের আগে হিমবাহ সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে উঠছে গুরুতর অভিযোগ।
বিপর্যয়ের তিন মাস আগে চিনের কাছে তথ্য চেয়েছিল নেপাল
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে কাঠমান্ডুতে হিমবাহ ও বন্যাজনিত বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন নেপাল ও চিনের আধিকারিকরা। ২৭ মে-র ওই বৈঠকে নেপালের ১০ জন আধিকারিক এবং তিব্বতের প্রতিনিধিদের-সহ প্রায় ১২ জন চিনা আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
বন্যা, আবহাওয়া এবং হিমবাহজনিত বিপদের ঝুঁকি কমাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। হিমবাহ হ্রদের তালিকা এবং ঝুঁকির মানচিত্র তৈরির বিষয়েও যৌথ পদক্ষেপের কথা ওঠে।
কিন্তু নেপালের অভিযোগ, হিমবাহের গতিবিধি, জলস্তর এবং চরম আবহাওয়া সম্পর্কে চিনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।
নেপালের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের হাইড্রোলজিস্ট সৌহার্দ্র জোশীর দাবি, হিমবাহের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্বাভাবিক কোনও গতিবিধি হলে আগাম জানানোর অনুরোধ এখনও পূরণ হয়নি।
চিনের দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছিল
অবশ্য নেপালের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেজিং। চিনা দূতাবাসের দাবি, এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। দুর্গম হিমালয় সীমান্তে বিপদ পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন বলেও জানিয়েছে চিন।
তবে নেপালের হাইড্রোলজিস্ট বিনোদ পরাজুলির দাবি, তিব্বতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে চিনের তরফে তথ্য দেওয়া হলেও তুষারধস, জলস্তর কিংবা ভূমিধসের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়মিত জানানো হয় না।
নেপালের দাবি, শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস নয়, প্রতি ১০ মিনিট অন্তর হিমবাহ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়াও জরুরি।
অজ্ঞাতপরিচয় দেহের গণকবর
এদিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর উদ্ধার হওয়া বহু মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন জলে-কাদায় পড়ে থাকায় অনেক দেহ পচনশীল হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেপালের চিতওয়ানের দেবঘাট জঙ্গলে অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের গণকবর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে সেখানে ১৯৬টি দেহ কবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে স্বজনেরা যাতে তাঁদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারেন, তার জন্য প্রতিটি দেহের সঙ্গে শনাক্তকরণ নম্বর ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
একদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে তল্লাশি, অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করার কঠিন কাজ—নেপালের সামনে এখন দুই দিকেই গভীর সংকট।






