নেপালের প্রলয়ের জেরে এবার কাঁপছে উত্তরপ্রদেশ! গণ্ডক ও নারায়ণীতে হুটহাট ছাড়া হচ্ছে লাখ লাখ কিউসেক জল, জলমগ্ন মহারাজগঞ্জসহ একাধিক সীমান্ত এলাকা

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর এবার উদ্বেগ বাড়ছে উত্তরপ্রদেশেও। নেপালে একটানা বৃষ্টিপাতের জেরে নারায়ণী ও গণ্ডক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ত্রিশূলী নদীর জল এই নদীপথ ধরে নিম্ন অববাহিকায় উত্তরপ্রদেশের দিকে নেমে আসে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
বাড়ছে নদীর জল, একাধিকবার জল ছাড়ল বাঁধ
নদীতে অতিরিক্ত জলের চাপ সামলাতে বাল্মিকীনগর গণ্ডক বাঁধ থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ৯৯,৮০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়। রবিবার সকাল ১০টায় ছাড়া হয় ১,২৫,০০০ কিউসেক এবং দুপুর ১টায় আরও ১,৪৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।
মহারাজগঞ্জ জেলার নিচলৌল এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত জলরাশি নিয়ে দ্রুত গতিতে বইছে নারায়ণী-গণ্ডক। নদীর জলস্তর দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এমনটা হলে পাথালহাওয়া ও তেলফল এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা। পাশাপাশি নদী সংযোগকারী রোহুয়া নালাও উপচে পড়েছে। ফলে আশপাশের নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢোকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
প্রস্তুত উদ্ধারকারী দল
পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধারকারী দলকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
নিচলৌল সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। জলস্তর আরও বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাঁর দাবি, বাল্মিকীনগর গণ্ডক বাঁধের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪.৩০ লক্ষ কিউসেক। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
নেপালে এখনও চলছে উদ্ধারকাজ
এদিকে নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহজনিত বিপর্যয়ের পর ধ্বংসের ছবি এখনও বদলায়নি। নতুন করে একটানা বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রবিবারের হিসাবে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৬৮ এবং নিখোঁজ ৩০৪৮ বলে দাবি করা হয়েছে। হাজারো বাধা সত্ত্বেও দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের বিপর্যয়ের জল যখন ধীরে ধীরে ভারতের নিম্ন অববাহিকার দিকে নামছে, তখন নারায়ণী ও গণ্ডকের জলস্তরের দিকে তাকিয়ে সতর্ক উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন।






