চুনকামের ১২ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই যাদবপুরে ফের দেওয়াল লিখন! মার্ক্সের উক্তি ঘিরে নতুন বিতর্ক, তুঙ্গে ছাত্র ও রাজনৈতিক তরজা

চুনকাম করে মুছে দেওয়া হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন। কিন্তু ১২ ঘণ্টাও কাটল না, ফের সেই দেওয়ালেই ফুটে উঠল নতুন স্লোগান। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে লেখা হয়েছে কার্ল মার্ক্সের একটি চার লাইনের উক্তি। ফলে দেওয়াল লিখন ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়াল চুনকাম করে বিতর্কিত লেখা ও গ্রাফিতি মুছে দেওয়া হয়েছিল। তার পর রাতের অন্ধকারে ফের নতুন করে লেখা হয় কার্ল মার্ক্সের উক্তি। কে বা কারা এই দেওয়াল লিখন করেছে, তা এখনও জানা যায়নি।
কী লেখা হয়েছে দেওয়ালে?
দেওয়ালে কার্ল মার্ক্সের একটি বক্তব্য লেখা হয়েছে। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়— ‘আমাদের করুণা নেই, আমরা তোমাদের কাছ থেকেও কোনও করুণা চাই না। যখন আমাদের পালা আসবে, তখনকার সন্ত্রাসের জন্য কোনও অজুহাত খুঁজব না।’
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ABVP-এর অভিযোগ নকশালপন্থীদের বিরুদ্ধে
গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন ABVP-এর দাবি, এই দেওয়াল লিখনের পিছনে রয়েছে অতিবাম বা নকশালপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ জানানোর কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, SFI-এর তরফে জানানো হয়েছে, রাতে গোপনে দেওয়াল লেখার বদলে তারা দিনের আলোতেই দেওয়াল লিখন করবে।
আগে কী নিয়ে বিতর্ক?
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিতর্কিত দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ’ কিংবা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে থাকা উচিত নয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে SFI ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। SFI-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘দেওয়াল মুছে ইতিহাস মোছা যায় না!’ পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিও তোলেন তিনি।
ফের বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
চুনকাম করা দেওয়ালেই ফের মার্ক্সের উক্তি লেখা হওয়ায় যাদবপুরে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এটি নিছক ছাত্রদের দেওয়াল লিখন, নাকি এর পিছনে কোনও সংগঠিত রাজনৈতিক উদ্যোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফলে সোমবার নতুন দেওয়াল লিখনকে ঘিরে যাদবপুর ক্যাম্পাসে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।






