
রাক্ষুসে নদী গোটা গ্রাম গিলে খাওয়ার পর ভয়ংকর জলস্রোত ধেয়ে আসছিল স্কুলের দিকে। অথচ তখনও স্কুলে উপস্থিত শত শত পড়ুয়া। ঠিক সেই সময় বন্ধুর ফোনে বিপদের খবর পেয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে গেলেও দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ছুটি ঘোষণা করেন, স্কুলমুখী বাসগুলিকেও ফিরে যেতে নির্দেশ দেন।
প্রধান শিক্ষকের এই উপস্থিত বুদ্ধি এবং দূরদর্শিতাতেই নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেল ১৬৪৩ জন পড়ুয়া।
‘বান আসছে’, সতর্ক করলেন প্রধান শিক্ষক
সকালে স্কুলে তখন প্রায় ৯০০ পড়ুয়া উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ পড়ুয়া তখনও স্কুলে পৌঁছয়নি। সেই সময়ই বন্ধুর ফোনে হড়পা বানের খবর পান রাজেন্দ্র। একই সময়ে এক পড়ুয়ার অভিভাবকও স্কুলে এসে বিপদের কথা জানান।
আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি প্রধান শিক্ষক। স্কুলের বাসচালকদের ফোন করে দ্রুত ফিরে যেতে বলেন।
রাজেন্দ্রর কথায়, শেষ বাসটি যখন স্কুলের সামনের সেতু পার হচ্ছিল, তখন তিনি চিৎকার করে চালককে সতর্ক করেন। বাসটি সেতু পার হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে সেতুটি।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুল নদীর গ্রাসে
ত্রিশূলী নদী থেকে প্রায় ২০০ ফুট উঁচুতে ছিল ত্রিভুবন ত্রিশূলী সেকেন্ডারি স্কুল। এত উঁচুতে থাকার কারণে স্কুলটি বন্যার জলের কবলে পড়তে পারে, এমনটা কখনও ভাবেননি প্রধান শিক্ষকও।
কিন্তু বিপদ বুঝতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
হড়পা বানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এমনকি এক ছাত্রী প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হয়। তাকে মোটরবাইকে তুলে নিরাপদ জায়গায় পাঠানো হয়।
এরপর রাজেন্দ্র নিজে পড়ুয়াদের নিয়ে পাহাড়ের আরও উপরের দিকে উঠতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত একটি বিশাল বটগাছের নীচে আশ্রয় নেন তাঁরা।

বাঁচল ১৬৪৩ পড়ুয়ার প্রাণ
রাজেন্দ্রর দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের মোট ১৬৪৩ জন পড়ুয়া প্রাণে বেঁচে যায়। কিন্তু ভয়াবহ এই ঘটনায় স্কুলের এক শিক্ষক এবং এক সাফাইকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্কুল থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় জলের তোড়ে ভেসে যান ওই শিক্ষক। অন্যদিকে, পড়ুয়ারা নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পর স্কুলের দরজা বন্ধ করতে গিয়ে স্রোতে ভেসে যান সাফাইকর্মী।
প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবের সামনে যেখানে মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত, সেখানে একজন প্রধান শিক্ষকের উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে উঠল শত শত পরিবারের আশীর্বাদ।






