
ফুড ডেলিভারি অ্যাপের দৌলতে পছন্দের খাবার এখন ঘরে বসেই অর্ডার করা যায়। কিন্তু সেই খাবারে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ করল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জোম্যাটো। প্ল্যাটফর্মে এবার অ্যানালগ ডেয়ারি বা ‘নকল পনির’ দিয়ে তৈরি খাবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জোম্যাটোর তরফে জানানো হয়েছে, অ্যানালগ ডেয়ারি ব্যবহার করা খাবারের ক্ষেত্রে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের খাবারের একাধিক তালিকা প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কী এই অ্যানালগ পনির?
দেখতে অনেকটা আসল পনিরের মতো হলেও অ্যানালগ পনির তৈরির প্রক্রিয়া আলাদা। সাধারণ দুগ্ধজাত পনিরের মতো সরাসরি তরল দুধ ব্যবহার না করে এতে উদ্ভিজ্জ তেল, স্টার্চ, মিল্ক সলিড এবং বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়।
মূল কারণ, আসল পনিরের তুলনায় অ্যানালগ পনির তৈরি করতে খরচ কম। ফলে কম দামে খাবার তৈরি করতে দেশের বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও ক্যাফেতে এই ধরনের পণ্য ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
স্বাদ ও গন্ধেও আসল পনিরের সঙ্গে পার্থক্য থাকে। তবে মশলাদার গ্রেভি বা কোর্মার মতো পদে সেই তফাৎ অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না।
কেন নিষেধাজ্ঞা?
জুলাইয়ের শেষদিকে মহারাষ্ট্রে অ্যানালগ পনির নিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর অ্যানালগ পনির তৈরি, মজুত, বিতরণ ও বিক্রি নিয়ে একাধিক রাজ্যে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, ছত্তীসগঢ়, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে এই ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই নিজেদের প্ল্যাটফর্মে অ্যানালগ ডেয়ারি ব্যবহার করা খাবারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে জোম্যাটো।

রেস্তরাঁগুলিকে কী নির্দেশ?
নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রেস্তরাঁ পার্টনারদের কয়েকটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—
- অ্যানালগ পনির ব্যবহার করা খাবার আসল পনির দিয়ে তৈরি করতে হবে।
- তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন সম্ভব না হলে সেই খাবার মেনু থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
- সরবরাহকারীদের দেওয়া পণ্যের লেবেল ও উপাদানের বিবরণ যাচাই করতে হবে।
- জোম্যাটোয় খাবারের তালিকায় ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
আপনার পনির আসল কি না বুঝবেন কীভাবে?
অ্যানালগ পনির অনেক সময় দেখতে আসল পনিরের মতোই হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পর্শ ও গঠনে পার্থক্য বোঝা যেতে পারে।
আসল দুগ্ধজাত পনির সাধারণত নরম ও কোমল হয়। অন্যদিকে অ্যানালগ পনির দুই আঙুলের মধ্যে চাপলে তুলনামূলকভাবে শক্ত বা রবারের মতো অনুভূত হতে পারে।
তবে শুধু স্পর্শ বা স্বাদ দিয়ে নিশ্চিতভাবে পনিরের ধরন নির্ধারণ করা সবসময় সম্ভব নয়। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হল প্যাকেটজাত পণ্যের লেবেল ও উপাদানের তালিকা যাচাই করা এবং রেস্তরাঁর কাছে ব্যবহৃত পনির সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া।
ফলে বাইরে পনিরের কোনও পদ অর্ডার করার আগে শুধু দাম বা স্বাদ নয়, খাবারে আসলে কী ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।






