
যে গান ছিল কাতার বিশ্বকাপে তাঁর নিত্যসঙ্গী, ড্রেসিংরুম থেকে মাঠ—সতীর্থদের কণ্ঠেও যে গান বারবার শোনা গিয়েছে, সেই ‘Brindis’-কেই নিজের আন্তর্জাতিক ফুটবল-যাত্রার শেষ মুহূর্তে বেছে নিলেন লিওনেল মেসি।
সোলেদাদ পাস্তোরুত্তির গাওয়া এই গানকে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের আবেগঘন মুহূর্তগুলিকে সাজিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। যেন প্রিয় গানের সুরেই টেনে দিলেন নীল-সাদা জার্সিতে নিজের ২১ বছরের বর্ণময় অধ্যায়ের শেষ পর্দা।
মারাদোনার সামনে প্রথমবার ‘Brindis’
‘Brindis’ গানটির সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবলের সম্পর্ক অবশ্য অনেক পুরনো। ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর একটি কনসার্টে সোলেদাদ প্রথম দিয়েগো মারাদোনার সামনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন। সেই সময় গানের কিছু অংশ বদলে মারাদোনাকে উদ্দেশ করে আবেগঘন কয়েকটি লাইনও গেয়েছিলেন তিনি।
এরপর ধীরে ধীরে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গানটি।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর গানটি কার্যত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। পরে সোলেদাদ জানিয়েছিলেন, কোপা আমেরিকার পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ‘Brindis’ দলের প্রিয় গানে পরিণত হয়েছে।
মেসিও একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, গানটি শুধু একটি গান নয়—আর্জেন্টিনা দলের আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল।

বিশ্বকাপ জয়ের পরও মেসির ভিডিওতে ‘Brindis’
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের কয়েক মাস পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন মেসি। সেই ভিডিওতেও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন ‘Brindis’।
এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের সময়ও সেই গানই বেছে নিলেন তিনি।
গানটির কথায় বারবার উঠে আসে কষ্টের পরেও হাল না ছেড়ে এগিয়ে চলার বার্তা। মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সঙ্গেও যেন অদ্ভুত ভাবে মিলে যায় সেই আবেগ।

২১ বছরের নীল-সাদা যাত্রায় ইতি
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি হাতে লেখা কাগজের ছবি প্রকাশ করেন মেসি। সেখানেই ‘বুকে কষ্ট নিয়ে’ বিদায়ের কথা জানান তিনি। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানান কিংবদন্তি ফুটবলার।
২০০৫ সালে প্রথম আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন মেসি। অভিষেক ম্যাচেই দেখেছিলেন লাল কার্ড। সেই বিতর্কিত শুরু থেকে পরবর্তী ২১ বছরে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে।
বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছেন। অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েও ফিরে এসেছেন আরও শক্তিশালী হয়ে।
আর তাই বিদায়ের ভিডিওতে ‘Brindis’ শুধু একটি গানের নির্বাচন নয়—মেসির ২১ বছরের লড়াই, যন্ত্রণা, প্রত্যাবর্তন এবং সাফল্যের এক আবেগঘন প্রতীক।

নীল-সাদা জার্সিতে আর সেই জাদু দেখা যাবে না—এই বাস্তবতাই এখন মেনে নিতে হচ্ছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।






